প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৩ খুন: আদালতে জবানবন্দিতে দায় স্বীকার বাবুলের

প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৩ খুন: আদালতে জবানবন্দিতে দায় স্বীকার বাবুলের

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২০/০৮/২০২৬ ১৯:২৩:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার আলোচিত ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি বাবুল মিয়া রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা সুলতানার খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চার দিনের রিমান্ড শেষে বাবুলকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। আসামির জবানবন্দি প্রদানের সম্মতির ভিত্তিতে আদালত তা গ্রহণ করেন।

এর আগে, গত রবিবার (১৬ আগস্ট) পুলিশ বাবুলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির দেওয়া তথ্য মতে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং অনৈতিক দাবির বিরোধ।

ঘটনার সূত্রপাত (১২ আগস্ট, সকাল ৯:০০): রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা 'নিকুঞ্জ ভিলায়' যান বাবুল মিয়া (৪০)। গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (২৫) সঙ্গে পূর্বপরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক থাকায় তিনি দরজা খুলে দেন। ঘরে প্রবেশ করে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে তাহমিনা বাধা দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে বাবুল সঙ্গে থাকা ছোরা দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

চিৎকার শুনে বাসার মালিক ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২) এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাবুল তাকেও নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।

পালায়ন ও গ্রেফতার: হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার নিজ কলোনিতে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে বেলা ৩:৩০ মিনিটে পুলিশের বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসকালে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সন্তানরা দেশে পৌঁছানোর পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। শাহী ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে মানিক পীরের টিলায় তাদের দাফন করা হয়।

দাফন প্রক্রিয়া শেষে ১৪ আগষ্ট রাতে নিহত প্রবাসী সন্তানরা বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালী থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad