মৌলভীবাজারে প্রধান শিক্ষককে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখলেন শিক্ষার্থীরা

স্থায়ী বরখাস্তের দাবি

মৌলভীবাজারে প্রধান শিক্ষককে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখলেন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২০/০৮/২০২৬ ২২:২২:০৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার পৌর শহরের হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে অবরুদ্ধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে অফিস কক্ষের বাইরে তালা দিয়ে দরজার সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ বিদ্যালয়ে আসেন সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম। তার বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ার জন্য শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ছাত্রীদের শাসান। ইতোপূর্বে যারা তার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছে তাদের বিদ্যালয় থেকে বের দেওয়ারও হুমকি দেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা বলেন, সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় ওনার এভাবে বিদ্যালয়ে আসা ঠিক হয়নি। বিদ্যালয়ে এসে তিনি যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এর দায় উনাকেই নিতে হবে। বিষয়টি বিদ্যালয়ের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীনকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, মৌলভীবাজার জজ কোর্ট উনাকে বরখাস্ত করেছে। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে আপিল করলে হাইকোর্টও বরখাস্ত বহাল রাখে। তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে আদালত অবমাননা করেছেন। এর দায় উনাকে নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগমের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে রাশেদা বেগমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক তদন্ত কমিটি করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মেহনাজ ফেরদৌস স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

অফিস আদেশে মেহনাজ ফেরদৌস উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থনৈতিক দুর্নীতি, কর্তব্যে গাফিলতি এবং প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণেই প্রশাসন তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় ।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad