‘মাথায় শয়তান ভর করেছে তাই খুন করেছি’

সুনামগঞ্জে ঘাতক মায়ের স্বীকারোক্তি

‘মাথায় শয়তান ভর করেছে তাই খুন করেছি’

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২০/০৮/২০২৬ ২২:৩৯:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের কুরবাননগরে জাকিয়া আক্তার নিহা (৭) নামে এক শিশুকে নদীতে ফেলে খুনের অভিযোগে সৎ মা আছিয়া বেগমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আছিয়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও গ্রামের মো. তাজ উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই অভিজিৎ ভৌমিক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছিয়া বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মাথায় শয়তান ভর করায় তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদারগাঁও গ্রামের তাজউদ্দীন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। শিশু নিহা ছিলেন তার প্রথম স্ত্রীর চার নম্বর সন্তান। চার বছর আগে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাজউদ্দীন সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরের আছিয়া বেগমকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। আছিয়া বেগমের কোনো সন্তান নেই। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর সন্তান ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। গত ১৭ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে নিহাকে নিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সুরমা নদীতে গোসল করতে যান আছিয়া বেগম। কিন্তু ওই দিন দুপুরে তাজউদ্দীন তার মেয়েকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মেয়েকে কোথাও না পেয়ে ওই দিনই সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পরদিন ১৮ আগস্ট পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে তল্লাশি চালিয়েও নিহার কোনো সন্ধান পায়নি।

ঘটনার দুদিন পর ১৯ আগস্ট সকালে সুরমা নদীর রাজারগাঁও গ্রামের অংশ থেকে নিখোঁজ নিহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে একাধিক জখমের চিহ্ন ছিল। এরপর পরিবার ও স্থানীয়রা চাপ প্রয়োগ করলে আছিয়া বেগম নিহাকে খুন করে সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান।

এ ঘটনায় নিহত নিহার বাবা তাজউদ্দীন বাদী হয়ে স্ত্রী আছিয়া বেগমের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ গোদারগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আছিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে।

সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই অভিজিৎ ভৌমিক জানান, গ্রেপ্তারকৃত আছিয়া বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সতীনের মেয়েকে খুন করে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

লতিফুর রহমান রাজু/ অোর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad