ভাঙল অতীতের সব রেকর্ড: দাপট অপরিবর্তিত
সিলেট সীমান্তে আগস্টে শত কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
সিলেট সীমান্ত জুড়ে এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। সীমান্ত কেন্দ্রিক অপরাধ আর চোরাচালানের চলমান গতি অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। দৃশ্যপটে রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদল হলেও পরিবর্তন হয়নি চোরাকারবারি এবং নেপথ্যের গডফাদারদের বোল। নারী পাচার, মাদক, প্রসাধনী, অস্ত্র থেকে শুরু করে অবৈধ পণ্যের অবাধ প্রবেশে জর্জরিত সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলো। ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর কেবল হাতবদল হয়েছে সিন্ডিকেটের; সাবেক প্রভাবশালী নেতাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এখন স্থানীয় নতুন প্রভাবশালী চক্রই সীমান্ত বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে এসব চোরাই পণ্য সড়ক ও রেলপথ ধরে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। এতে সরকার প্রতি মাসে শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিজিবির কড়া অভিযান অব্যাহত থাকলেও আড়ালেই থেকে যাচ্ছে মূল কারবারিরা।
চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বিজিবির অভিযান
২২ আগস্ট : ৪৬ বিজিবি ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ৩ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস উদ্ধার করে।
২৩ আগস্ট : বাংলাবাজার, সোনালীচেলা, বিছনাকান্দি, তামাবিল ও প্রতাপপুর বিওপির অভিযানে আনুমানিক ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের কসমেটিকস, শাড়ি, জিরা, চা-পাতা, মোবাইল ডিসপ্লে, গরু, কম্বল, চকলেট, মাছ, চিনি, সুপারি ও ইয়াবাসহ বারকী নৌকা ও মালামাল জব্দ করা হয়।২৪ আগস্ট : একই সীমান্ত এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় গরু, মহিষ, জিরা, কসমেটিকস এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে ট্রাউজার জব্দ করা হয়।
২৫ আগস্ট : কালাইরাগ, প্রতাপপুর, সংগ্রাম, দমদমিয়া ও সোনরহাট বিওপির অভিযানে ৭৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ, গরু, শাড়ী, চকলেট, বিড়ি, সুপারি, সবজি ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ এবং সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান,বিজিবির সরাইল রিজিয়নের (সিলেট, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল ও ময়মনসিংহ সেক্টর) আওতাধীন ২১১টি বিওপির অভিযানে মোট ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকার মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
এসব অভিযানে ৪টি পিস্তল, ৬টি এয়ারগান, ৫টি পাইপগান, ১টি ওয়ান শুটার গান, ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮.৩৩ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়।
সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে এবং রাজস্ব ক্ষতি কমাতে বিজিবির এই কঠোর অভিযান ও অভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: