সিসিকের ‘মহাদান’: ৬ লাখের আয়োজনে ১০ হাজারের উপহাস!

সিসিকের ‘মহাদান’: ৬ লাখের আয়োজনে ১০ হাজারের উপহাস!

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৪/০৮/২০২৬ ২১:০১:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

শিল্প-সংস্কৃতির লালন নাকি স্রেফ তামাশা? সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাম্প্রতিক ‘স্পন্সরশিপ’ কান্ডে সুধীমহলে এখন বইছে অট্টহাসি আর ধিক্কারের তীব্র ঝড়।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত ১০ মে থেকে ১৬ মে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে 'সিলেট বইমেলা ২০২৬'-এর হাঁকডাক তুলেছিল প্রকাশক পরিষদ সিলেট। মেলায় নতুন প্রজন্মের পাঠ্যাভ্যাস গঠনে দু’শতাধিক খুদে পাঠকের হাতে অকাতরে বই তুলে দেওয়া হয়; প্রবীণ-নবীন শিল্পীদের সান্ধ্যকালীন পরিবেশনা শেষে দেওয়া হয় সম্মাননা গ্রন্থ। সব মিলিয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতির এই বিশাল যজ্ঞে আয়োজকদের গ্যান্ট্রি থেকে ব্যানার—সর্বত্র জ্বলজ্বল করছিল সিসিকের ‘সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা’র রাজকীয় খেতাব।

তবে মহতী এই মিলনমেলার পর্দা নামতেই ঘটল অঘটন। প্রায় ছয় লাখ টাকার তহবিল গালানো এই উৎসবের বিপরীতে ‘পৃষ্ঠপোষক’ সিসিক কর্তৃপক্ষের থলি থেকে খসলো মাত্র ১০ হাজার টাকার একখানা চেক! ছয় লাখি আয়োজনে দশ হাজারি এই ঔদার্য—যেন ‘পর্বতের মূষিক প্রস্রব’! সিসিকের এমন করুণ কৃপণতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আয়োজকরা। সিসিক প্রশাসকের দেওয়া এমন 'লজ্জাজনক' অনুদান রাখালিয় কায়দায় প্রত্যাখ্যান করে গত ২০ আগস্ট চেকটি সিসিকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে প্রকাশক পরিষদ।

এ বিষয়ে প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক সুফি সুফিয়ান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছয় লাখ টাকার মেলায় সিসিকের এমন অনুদান স্রেফ অমার্জনীয় উপহাস! শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ তো দূর, স্থানীয় প্রশাসনের এ হেন হীনমন্য কৃপণতা চরম লজ্জার। আমরা এই থোড়-বড়ি-খাড়া অনুগ্রহকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি।”

নগর পিতার দরবারে সংস্কৃতির এই মূল্যছাড় দেখে সুশীল সমাজ বলছেন—সিসিক বুঝি ভেবেছিল, শব্দের মেলায় টাকার কী কাজ!

ডিডি/ নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad