জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ নয়: সুনামগঞ্জে মতবিনিময় সভায় প্রবাস কল্যাণ মন্ত্রী

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ নয়: সুনামগঞ্জে মতবিনিময় সভায় প্রবাস কল্যাণ মন্ত্রী

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২৫/০৮/২০২৬ ২০:৪২:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সভায় সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ১১ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনা হবে। মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"

তিনি উপস্থিত সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন (পিপিএম)-কে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে অনুসন্ধান চালিয়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত সকল দালালচক্র ও মানবপাচারকারীকে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন বাজার উন্মোচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় দ্রুতই নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হবে এবং কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ জেলাসহ সিলেট অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রজেক্টর প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সমুদ্রপথে ইতালিতে আগমনকারী অনিয়মিত অভিবাসীদের শীর্ষ স্থানে ছিল বাংলাদেশ (২০২৩ সালে ইতালি পৌঁছানো মোট অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রায় ৩১ শতাংশ)। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছানো বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল: ২০২১ সাল: ১৫,১৮৮ জন, ২০২২ সাল: ১২,৭৭৫ জন ২০২৩ সাল: ১৫,০০০ জন ২০২৪ সাল: ২০,০০০ জন।

উপাত্তে দেখা যায়, দেশে অবৈধপথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলায়। পাচারকারীরা প্রথমে লিবিয়ার 'গেম ঘরে' জিম্মি করে পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করে এবং পরিশেষে অতিরিক্ত যাত্রীসহ ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগরে ঠেলে দেয়।

সভায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও 'প্রবাসী কার্ড'-এর সুবিধা তুলে ধরে জানানো হয়, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারীর পরিবার বিমানবন্দর থেকে তাৎক্ষণিক ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান পায়। লাশ পরিবহন ও দাফন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। তাছাড়া, প্রবাসীদের সর্বোচ্চ ২ জন প্রতিবন্ধী সন্তানকে ৬ বছর মেয়াদে মাসিক ২,০০০ টাকা ভাতা এবং সন্তানদের এসএসসি পর্যায়ে ২৭,৫০০ টাকা ও এইচএসসি পর্যায়ে ৩৪,০০০ টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। একইসাথে বিমানবন্দরে ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস, বলাকা লাউঞ্জে ২০% ছাড়, বিমান টিকিটে ১০% ছাড়, পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেলে ৪১% ছাড় এবং রেমিট্যান্সে ৩.০%–৩.৫% পর্যন্ত নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৫), নুরুল ইসলাম (সুনামগঞ্জ-৪), মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৩) এবং কামরুজ্জামান কামরুল (সুনামগঞ্জ-১)।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. মোখতার আহমেদ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিললুর রহমান ও পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন (পিপিএম)।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad