মৌলভীবাজারে ১০ লাখ টাকার মিলাদ বিতর্ক: এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জের গরম হাওয়া!
মৌলভীবাজারে ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসুল সালামু আলাইকা’ পাঠের বৈধতা নিয়ে গড়ে ওঠা ধর্মীয় বিতর্ক এবার একেবারে হাই-ভোলেটেজ ড্রামায় রূপ নিয়েছে! ১০ লাখ টাকার বাজি ধরে ছোঁড়া উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ও তা এক বাক্যে লুফে নেওয়ার পর এখন শুরু হয়েছে চরম নাটকীয়তা। প্রতিপক্ষ যেন ‘অজুহাতের চাদর মুড়ি দিয়ে ভোঁ-দৌড়’ না দেয়—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারী পক্ষ হুঙ্কার ছেড়েছে, “অজুহাত কিংবা কেটে পড়া চলবে না! কবে, কোথায় বসবেন তারিখ দিন, আমরা কিন্তু একদম অল-সেট!”
এই কথার লড়াই ও গরম গরম ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার বিকেলে। মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধনে মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মাসুক মিলাদ ও কিয়ামের শরয়ী বৈধতার পক্ষে একবারে ১০ লাখ টাকার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন।
ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি! ওই দিন রাতেই মুফতি আখতারুজ্জামান ইন্দেশ্বরী (ফেসবুক আইডি: md.Akter raznogori) সোশ্যাল মিডিয়ায় সগৌরবে এই ১০ লাখ টাকার চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্ট করার ঘোষণা দেন। ব্যাস! মুহূর্তের মধ্যেই পুরো জেলাজুড়ে শুরু হয় ডিজিটাল হুলুস্থুল। এই হাই-ভোল্টেজ বিতর্কে মাওলানা মাসুকের পক্ষে শক্ত ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা কবিরুজ্জামান নিজামী।
চ্যালেঞ্জ লুফে নেওয়ার জন্য ইন্দেশ্বরী সাহেবকে উষ্ণ ‘ওয়েলকাম’ জানিয়ে প্রধান মুহাদ্দিস বলেন, কথার লড়াইয়ের নিয়মকানুন, দিন-ক্ষণ ও ভেন্যু ঠিক করার মূল দায়িত্ব তিনি নিজেই সামলাবেন। তবে বিতর্কের তাপে আবার মাঠ যেন গরম না হয়ে ওঠে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কুস্তাকুস্তি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য পুরো 'বাহাছ'টি আইনশৃঙ্খলা ও সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক বিধিমোতাবেক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের গ্রিন সিগন্যাল ও সার্বিক সহযোগিতা নিয়েই এই মহাবিতর্কের আয়োজন সম্পন্ন হবে। কোনো পক্ষ যাতে শেষ মুহূর্তে ‘পা পিছলে’ না সরে পড়ে, সেজন্য টাউন কামিল মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিসের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে চূড়ান্ত দিন-তারিখ ঠিক করার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এখন পুরো মৌলভীবাজারের আলেম সমাজ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের চোখ সেই মহাসংগ্রামের দিকে—কবে, কোথায় এবং কোন প্রশাসনিক পাহারায় মুখোমুখি হন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মাসুক সমর্থিত দল আর মুফতি আখতারুজ্জামান ইন্দেশ্বরী!
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: