‘টাকা দিছি, বালু নিতে দিব না’
হবিগঞ্জে বালু নিলাম দিতে গিয়ে জনরোষে ইউএনওসহ নিলাম কমিটি
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে প্রকাশ্যে বালু নিলাম দিতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলামসহ নিলাম কমিটির সদস্যরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে উপজেলা পরিষদে চলে যান।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাখাই ইউনিয়নের বাংগালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী ‘টাকা দিছি, বালু নিতে দিব না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘সুতাং নদী দূষণমুক্তকরণ ও পুনরুজ্জীবিতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় জিওবি অর্থায়নে লাখাই খেয়াঘাট থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত সুতাং নদী খনন করা হয়। খননকাজে উত্তোলিত বালু ও মাটিমিশ্রিত বালু ছয় ধাপে নিলামের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রথম ধাপে লাখাই ইউনিয়নের বাংগালপাড় এলাকায় রাখা বালু নিলামে তোলার কথা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম নিলাম কমিটির দুই সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন বালু নিলামের প্রতিবাদ জানিয়ে তা বন্ধ রাখার দাবি করেন।
নিলাম কমিটি কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মারামারির আশঙ্কায় ইউএনও ও নিলাম কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে উপজেলা পরিষদে চলে যান।
পরে দুপুর ২টার দিকে উপজেলা পরিষদের হলরুমে নিলাম শুরু হয় বিকেল ৪ টার দিকে শেষ হয়। ছয় ধাপে মোট ৮১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বালু নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী খননের পর উত্তোলিত বালু দিয়ে তাদের নিচু জায়গা ভরাট করা হয়েছে। বালু যাতে নিলাম করা না হয়, সে জন্য লাখাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তোফাজ্জল ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিনের মাধ্যমে ইউএনওকে টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তাদের প্রশ্ন, টাকা দেওয়ার পরও কেন বালু নিলাম করা হচ্ছে?
লাখাই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নদী খননের মাটি দিয়ে কবরস্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরের জায়গা ভরাট করার কথা। তাঁর ওয়ার্ডে একটি কবরস্থান ও শ্মশান রয়েছে, কিন্তু সেখানে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘কবরস্থান ও কালীমন্দিরের জায়গা ভরাটের জন্য আমি কয়েকবার ইউএনওর কাছে গিয়েছি এবং আবেদনও করেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, এসব জায়গা ভরাট করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি।’
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে বালু নিলাম করা হচ্ছে, অথচ আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। সরকারি নির্দেশনা না মেনে কীভাবে ব্যক্তিগত জায়গা ভরাট করা হয়েছে, সেটি রহস্যজনক।’
৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওয়াহাব মিয়া বলেন, এলাকার লোকজন টাকা দিয়ে জায়গা ভরাট করিয়েছেন। এখন ওই স্থান থেকে বালু নিয়ে গেলে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই বালুগুলো নিলাম না দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিনে নিলাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় এবং মারামারির আশঙ্কায় সবার সম্মতিতে নিলাম উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয়। পরে উপজেলা পরিষদে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
ফয়সল চৌধুরী / ডিডি
মন্তব্য করুন: