সিলেটে ট্রিপল মার্ডার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজন আটক
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন বাবুল (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এলাকাটির পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ও বিদ্যুৎহীনতার সুযোগ নিয়ে খুনিরা ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একটি কক্ষ থেকে সুরাইয়া ও তাহমিনা এবং অন্য কক্ষ থেকে আব্দুস সাত্তারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, সকালে বাসার ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে দরজা খুলে তিনজনের লাশ দেখতে পায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হলেও কোনো আলামত বা অস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বাসার ওয়ারড্রব ও আলমারি তছনছ করা অবস্থায় মেলায় লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা নাকি পারিবারিক বিরোধ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎহীনতার সুযোগ ও পূর্বাপর ঘটনা
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই এলাকায় লোডশেডিং ছিল। বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ওই নির্দিষ্ট সময়ের কোনো ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। ঘাতকরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লোডশেডিংয়ের এই অন্ধ সময়কে (ব্ল্লাইন্ড স্পট) কাজে লাগিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ছাড়া বাসাটির অপর গৃহকর্মী ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি নিচতলার এক সাবেক ভাড়াটের সঙ্গে বাড়ির মালিকের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল, যিনি গত মাসেই বাসা ছেড়ে দেন। এই শত্রুতা ও নিখোঁজ গৃহকর্মীর ভূমিকাও পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।
এদিকে ঘটনার দিন বিকেল ছয়টার দিকে সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুলকে আটক করা হয়। সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, আটক বাবুলকে সাথে নিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত মূল অস্ত্র উদ্ধারে তাৎক্ষণিক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের না হলেও পুলিশের একাধিক ইউনিট রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: