সিকৃবিতে নবীনদের বরণ করল ছাত্রশিবির
নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) নবাগতদের বরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিকৃবি শাখা। এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন, দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নবীনদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সিলেট শহরের টিবি গেট সংলগ্ন জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিকৃবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন, একাডেমিক পড়াশোনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। ‘একাডেমিক ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ বিষয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুলতান আহমেদ টিপু। ‘চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজিন হোসাইন জুয়েল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আল্লাহর দেওয়া বড় নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে ডিপ ওয়ার্কের মাধ্যমে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রকৃত সুখ অর্থ-সম্পদে নয়, বরং নিজের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। র্যাগিং, জোরপূর্বক রাজনীতি ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সঠিক বন্ধু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বন্ধুত্বের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, আবরার ফাহাদের ঘটনা তার উদাহরণ। ক্যাম্পাসে র্যাগিং, গেস্টরুম কালচার, হল দখল কিংবা কোনো ধরনের নির্যাতন মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের জোর করে মিছিলে নেওয়া বা ক্যাডার রাজনীতিতে ব্যবহার করার দিন শেষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের ত্যাগের চেতনায় বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হবে।”
নবীন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত বিনামূল্যে বাসসেবার ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানকে ঘিরে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতেই একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন হিসেবে এ ধরনের আয়োজন আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে শুরুতেই দিকনির্দেশনা পাওয়া আমাদের জন্য সহায়ক হবে।”
সবশেষে নবীন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন শাখা সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে নবীনদের বরণ নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতেই তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ তৈরি, একাডেমিক ও পেশাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহ তৈরিই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সিকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান শান্তর সভাপতিত্বে এবং শাখা সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ কনকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাজু, সিকৃবি শাখার সাবেক সভাপতি কলিম উদ্দিনসহ সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতারা।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: