সুনামগঞ্জে দুই সন্তানকে হত্যার পর হাওরে ভাসিয়ে দিলেন বাবা!
তীব্র অভাব অনটন এবং সন্তানদের লালন পালন নিয়ে চরম হতাশার জেরে নিজের দুই শিশু সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় হাওরের পানিতে ফেলে হত্যার নির্মম ঘটনা ঘটেছে। নিজ হাতে ৬ বছরের ছেলে মো. মুহাদ্দিস ও সাড়ে ৩ বছরের মেয়ে তুলনাকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন ঘাতক বাবা কামরুল হাসান (৩২)। ঘটনাটি সুনামগঞ্জের দিরাই, শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযুক্ত কামরুল হাসান দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্তানদের নিজ হাতে হত্যার কথা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অভাব অনটন এবং চার সন্তানের ভরণ পোষণ নিয়ে স্ত্রী ফুলজান নেছা ও মা আফরোজা বেগমের সাথে ঝগড়া বিবাদ চলছিল কামরুলের। পারিবারিক এই অশান্তিতে বিরক্ত হয়ে গত শুক্রবার (০৭ আগস্ট) সকালে চার সন্তানের মধ্যে বড় দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দুই দিন অবস্থান করেন তিনি।
পরবর্তীতে রোববার (০৯ আগস্ট) রাতে সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্টে প্রথমে ছোট মেয়ে তুলনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখার হাওরে ফেলে দেন কামরুল। এরপর কিছু দূর এগিয়ে সদর উপজেলার মদনপুর পয়েন্টে বড় ছেলে মুহাদ্দিসকেও একইভাবে পানিতে ফেলে দেন তিনি।
ঘটনার পরদিন শিশুরা নিখোঁজ রয়েছে মর্মে দিরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর পরপরই মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শান্তিগঞ্জ থানা এলাকার দেখার হাওরে ভেসে ওঠে ছোট মেয়ে তুলনার মরদেহ।
পরদিন বুধবার (১২ আগস্ট) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় দেখার হাওর হাইওয়ে রাস্তার পাশে ছেলে মুহাদ্দিসের অর্ধগলিত ভাসমান দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ পিপিএম পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাওর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
দুই স্থানে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কামরুল হাসানকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে অভাব ও কলহের জেরে নিজেই দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার জানান, দুই দিনে দুটি স্থান থেকে দুটি শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দিরাই থানায় দায়ের করা নিখোঁজ সংবাদের সুত্র ধরে অভিযুক্ত পিতাকে হেফাজতে নেওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে দুই অবুঝ সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা ফুলজান নেছা ও পরিবারের সদস্যরা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: