দিরাইয়ে একাধিক মামলার আসামী চেয়ারম্যান একরারসহ ৩ জন কারাগারে

দিরাইয়ে একাধিক মামলার আসামী চেয়ারম্যান একরারসহ ৩ জন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১২/০৮/২০২৬ ১৬:১১:৪৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্তকৃত বিতর্কিত চেয়ারম্যান একরার হোসেনসহ তিন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

​মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জগন্নাথপুর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় (জিআর-১২০) আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন কমরুল হোসেন ও সাজিব আহমেদ।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর থানার মামলা নম্বর জিআর-১২০-এর মূল আসামি হিসেবে নাম রয়েছে কুলঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান একরার হোসেন, কমরুল হোসেন ও সাজিব আহমেদের। মঙ্গলবার মামলার নির্ধারিত দিনে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানান। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আসামিদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলঞ্জ ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান একরার হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাটিতে আধিপত্য বিস্তার, অস্ত্র প্রদর্শন, সহিংসতা, সন্ত্রাস, হত্যা ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

​২০২৫ সালের ২২ জুন কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে সে সময় জানানো হয়, একরার হোসেন সমর্থিত অস্ত্রধারীরা সেনাসদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনার পর গাদিয়ালা এলাকা থেকে আবু সাঈদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​এছাড়া সিলেটের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক একটি হত্যা মামলাসহ দিরাই, জগন্নাথপুর ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

একাধিক ফৌজদারি মামলা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একরার হোসেনকে কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

​বহু আলোচিত এ আসামির জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে প্রেরণের খবরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

প্রীতম দাস/ রত্না বাউরি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad