সুনামগঞ্জে দুই শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগে পিতা আটক
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশু সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের পিতা কামরুল হাসানের (৩২) বিরুদ্ধে। নিহতরা হলো—মুহাদ্দিছ মিয়া (৬) ও তার বোন তুলানা আক্তার (সাড়ে ৩ বছর)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পিতা কামরুল হাসানকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। কামরুল হাসান ওই গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল দুই সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেড়ানোর কথা বলে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেট যান কামরুল হাসান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর রবিবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের জাওয়া বাজার পার হয়ে ডাবর এলাকায় এসে তিনি নামেন। পরে ডাবরের পাশের বড়কাপন এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাড়ে ৩ বছরের শিশু তুলনাকে পানিতে ফেলে দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন কামরুল।
এরপর দিরাইয়ের পথে রাস্তার পাশে একটি মেডিকেল কলেজের সামনে পানিতে ফেলে দেন ৬ বছরের ছেলে মুহাদ্দিছকে। দুই শিশুকেই ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল বলেও জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানিয়েছেন।
এদিকে সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরে সন্তানদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেন কামরুল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হলে বুধবার তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার শান্তিগঞ্জ উপজেলার বড়কাপন এলাকা থেকে শিশু তুলনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্কনশ্রী ইউনিয়নের দেখার হাওর এলাকায় হাইওয়ে সড়কের পাশ থেকে শিশু মুহাদ্দিছের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “কামরুল হাসানকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।”
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
ডিডি/ নীরব
মন্তব্য করুন: