শ্রীমঙ্গলের নির্বাচন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে চা শ্রমিকরা
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে চা শ্রমিকরা। এতে অস্থির হয়ে উঠছে দেশের চা শিল্প। এরই মধ্য দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছেন শ্রমিকরা। বাগানে বাগানে চলছে মানববন্ধন, গণবিক্ষোভ মিছিল। দেওয়া হয়েছে স্মারকলিপি।
মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মাইজদিহি চা বাগান, জুড়ির সোনারুপা চা বাগানের পুচি ডিভিশন ও সাগরনাল চা বাগান, ফেঞ্চুগঞ্জের মনিপুর চা বাগান ও চট্টগ্রামের নিউ দাঁতমারা চা বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। এদিকে চায়ের ভরা মৌসুমে শ্রমিকরা আন্দোলন গেলে উৎপাদনে ভাটা পরবে বলে মনে করছেন বাগান মালিকরা।
দেশের ১৭২ টি চা বাগানে প্রায় ১ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছেন। এই শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিকর ইউনিয়ন। তিন বছর অন্তর অন্তর শ্রমিকদের ভোটে ইউনিয়নের নেতা নির্বাচন হন। এই নেতারাই সরকার ও মালিক পক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেন।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর আর নির্বাচন হয়নি। ২০২২ সালের পর আর শ্রমিকদের মজুরিও (বেতন) বাড়েনি। গত চার বছর ধরে হয়নি সরকার, শ্রমিক-মালিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। এতে চা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ, নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক কাজকর্মে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ কালিন্দি বলেন, ‘আর্থিক সংকট ও উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় সময়মতো নির্বাচন হয়নি। তবে এখন আর্থিক সংকেট কেটে গেছে। মামলা নিস্পত্তি হলেই নির্বাচন হয়ে যাবে।’
নির্বাচন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রতিদিনই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ি, রাজনগর, ও বড়লেখা হবিগঞ্জের বাহুবল, চানুরুঘাট ও মাধরপুর, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিভিন্ন চা বাগানে আন্দোলন করেছেন চা শ্রমিকরা।
৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি প্রত্যাহার, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন ও মানসম্মত মজুরি ও নির্বাচনের দাবিতে গত ৬ আগষ্ট বাংলাদেশ চা
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা শ্রীমঙ্গল শহরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
এদিকে এমআর খাঁন চা বাগানের মালিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন কম হচ্ছে। তার উপর শ্রমিকরা আন্দোলনে গেলে চা শিল্পের বিরাট ক্ষতি হবে।’
বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপ-শ্রমপরিচালক মোহাব্বত হোসেন বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাবে। আর মজুরির বিষয়টি মালিকপক্ষ দেখবে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: