জগন্নাথপুরে খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো এখন মরণ ফাঁদ!
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো এখন মানুষের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের। উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নয়াবন্দর বাজার থেকে দাওরাই হয়ে পাঠকুড়া বাজার পর্যন্ত সড়কের এ বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও আবার বৃষ্টির পানিতে গর্তই দেখা যায় না। একটু অসতর্ক হলেই বিপদ। গর্তে পড়ে উল্টে যাচ্ছে ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন। অল্প বৃষ্টি হলে পানি জমে দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুন। এলাকাবাসী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বারবার ধর্না দিলেও এখনও রাস্তা সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি সংস্কার কাজের জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হলেও স্থায়ী এলজিইডি মাধ্যমে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে একদিকে যেমন যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে ধীরগতিতে চলাচলের কারণে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
আশারকান্দি গ্রামের গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘২০২৩ সালে সড়কটি সংস্কার কাজের টেন্ডার হলেও নামমাত্র কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এখন রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ ছাড়াও রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর বর্ষাকালে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। রাস্তা ভাঙ্গন রোধে নদীতে থাকা বাঁধগুলো ভেঙে দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে নদীর পানি চলাচল ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান খান বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তার অবস্থা এমন করুণ অবস্থা চলাচল করা সম্ভব নয়। রাস্তাটি সংস্কার করা একান্ত জরুরি। রাস্তাটি সংস্কার করতে নদীর পাড়ে গার্ড ওয়াল ও আরসিসি করে নির্মাণ করা হলে টেকসই ও মজবুত রাস্তা হবে।’
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হাজী সুহেল আহমেদ খান টুনু বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি রাস্তায় ইটের খোয়া পেলে মানুষের সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সংস্কার কাজ হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য পাঁচ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের সংস্কার কাজ হবে।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: