সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: কসাই বাবুলের স্থান হলো কারাগারে

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: কসাই বাবুলের স্থান হলো কারাগারে

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৩/০৮/২০২৬ ২২:৩০:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরের রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাকে জেলে পাঠানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির রাতে প্রথম সিলেটকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত দম্পতির ছেলে দেশে আসার পর আগামীকাল শুক্রবার মামলার এজাহার দেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ছোরায় থাকা রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থলের বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ এবং একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

পুলিশের কাছে বাবুলের লোমহর্ষক বর্ণনা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন, তিনি আগে ওই বাসায় রং করার কাজ করেছিলেন। এ কারণে বাসার ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে তার ধারণা ছিল। ওই কাজের সূত্রে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তাহমিনার কোনো আচরণে বাবুল ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি ছুরি নিয়ে ওই বাসায় যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথমে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাবুল যে বারান্দা দিয়ে পালানোর কথা বলেছেন, সেখানকার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে বাবুল ছাড়া অন্য কেউ ওই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন, এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ছোরা ও অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে কার কী ভূমিকা ছিল, তা আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিহত তিনজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে নিহত সাত্তার-সুরাইয়া দম্পত্তির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ, বুধবার সকালে মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে বাড়ির মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (২৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন বিকেলে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ) ছেলে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad