তাহমিনার শরীরে ১৮ ছুরিকাঘাত, সুরাইয়ার চার আঙুল কাটা

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার

তাহমিনার শরীরে ১৮ ছুরিকাঘাত, সুরাইয়ার চার আঙুল কাটা

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৩/০৮/২০২৬ ২৩:৩৫:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দিনেদুপুরে সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার একটি বাসায় ঢুকে দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের তথ্য পাওয়া গেছে। আর গৃহকর্মী তাহমিনার শরীরে ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

ময়নাতদন্তের তথ্য অনুসারে, সুরাইয়া বেগমের ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল। তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর তাহমিনার শরীরে ছিল ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির মৃত নূর মিয়ার (কবিরাজ) ছেলে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়াকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত দম্পতির ছেলে দেশে আসার পর শুক্রবার মামলার এজাহার দেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ। বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ছোরায় থাকা রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলের বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছোরার ধাতব অংশে শুকনো রক্তের দাগ এবং একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এসব আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন, তিনি ওই বাসায় রং করার কাজ করেছিলেন। ওই কাজের সূত্রে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। পুলিশের ভাষ্য, তাহমিনার কোনো আচরণে বাবুল ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে প্রথমে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে দরজার নিচের ছোট ছিটকানি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাবুল যে বারান্দা দিয়ে পালানোর কথা বলেছেন, সেখানকার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad