দেবর-ভাবির যুদ্ধে কাঁপছে দিরাই বিএনপি!

দেবর-ভাবির যুদ্ধে কাঁপছে দিরাই বিএনপি!

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৩/০৮/২০২৬ ১৬:২০:৪৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টিভি সিরিয়ালের ‘শাশুড়ি-বউ’ বা ‘দেবর-ভাবি’র ঝগড়ার গল্পকে এবার হার মানিয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা বিএনপির রাজনীতি! ঘরের গৃহদ্বন্দ্ব এখন খোলা মাঠে, আর ক্ষমতার লড়াইয়ের নেপথ্যে ট্র্যাজিক নাইকা হিসেবে উঠে এসেছেন স্বয়ং ‘ভাবি’! দুই ভাইয়ের কামড়াকামড়ি আর ভাবির আইনি চালে দিরাই বিএনপির তৃণমূলের এখন চরম ‘পপকর্ন মোমেন্ট’ চলছে!

গত এক মাস ধরে দিরাই বিএনপি মূলত দুটি ভাগ হয়ে গেছে—একটি 'ভাইয়ের দল', অন্যটি 'ভাবির সমর্থক দল'। দুই পক্ষই আলাদা সভা করছে, একে অপরকে দল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, আর বিশাল বিশাল শোডাউন মেরে নিজেদের 'আসল বিএনপি' দাবি করছে।

গল্পের শুরু ৬ আগস্ট। সাবেক এমপি নাছির উদ্দীন চৌধুরী এক বিশাল মিটিং ডেকে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন, "যারা আমার বাইরে আলাদা মিটিং করবে, তারা বিএনপির কেউ না! তারা শয়তানের চেলা!"

কিন্তু ছোট ভাই (সৎ ভাই) মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকও কম যান কিসে? দুদিন পরেই (৮ আগস্ট) বাগানবাড়ি পয়েন্টে নিজের অনুসারীদের নিয়ে বিশাল প্যান্ডেল খাঁটিয়ে উনি পাল্টা হুঙ্কার দিলেন—"লন্ডন প্রবাসী পাভেল ভাই আমাদের সঙ্গে আছেন, আমরাই আসল দল!"

ভাইয়ের এই আস্পর্ধা সহ্য হয়নি ভাবি পারভীন আক্তারের। ১০ আগস্ট সোজা আদালতে গিয়ে দেবরের বিরুদ্ধে ঠুকে দিলেন ঠনঠনে মামলা! ভাবির অভিযোগ ভয়াবহ—অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পর নাকি এই দেবর মাসুক গভীর রাতে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে তাকে আর তার দুই মেয়েকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন! শুধু তা-ই নয়, টাকা-পয়সা, সোনাদানা লুট করে শ্লীলতাহানিও করেছেন!

তবে দেবর মাসুকের কথা আবার আরেক কাঠি সরেশ! তার দাবি, "আরে ভাই, ২০০১ সালে আমার ভাই আমাদের না জানিয়ে লুকিয়ে এই পারভীনকে বিয়ে করেছিল, পরে তো ডিভোর্সও হয়ে গেছে! থানা-পুলিশও হয়েছিল। উনি এখন ভুয়া ভাবি সেজে সিন্ডিকেট করে দল আর সম্পত্তি লুট করতে এসেছেন!" মাসুকের আরও দাবি, নাছির ভাইয়ের প্রথম স্ত্রী আর নিজের বোনকে সাক্ষী রেখে সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমেই সব সম্পত্তি রেজিস্ট্রি হয়েছে, এখানে কোনো ঘাপলা নেই।

এদিকে সাধারণ কর্মীরা মাথায় হাত দিয়ে ভাবছেন, ‘দল করব না পারিবারিক বিচার মেটাব?’ তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, ভাবি পারভীন আক্তার নাকি পছন্দের কিছু চাটুকার নিয়ে একাই দল চালাতে চান, আর ত্যাগী নেতাদের পাত্তাই দিচ্ছেন না!

ঝামেলা মেটাতে জেলা বিএনপির বড় নেতারা চিঠি পাঠিয়ে দুই পক্ষকে ‘এক হয়ে চা খাওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই পক্ষই সেই চিঠি একপাশে সরিয়ে রেখে যার যার মতো মারমুখী অবস্থানে! জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এখন আফসোস করে বলছেন, "আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি, এবার দুই পক্ষকে ধরে একসঙ্গে বসাব!"

এদিকে ভাবি পারভীন আক্তার বেশ শক্ত মুখেই বলছেন, "আমার স্বামী অসুস্থ, এই সুযোগে দেবর মাসুক সম্পত্তি আর রাজনীতির গদি একাই গিলে খেতে চায়! কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দেব না।"

সব মিলিয়ে, দিরাই বিএনপির রাজনীতি এখন কোনো সিরিয়াস রাজপথের আন্দোলন নয়, বরং হাই-ভোল্টেজ ‘ফ্যামিলি ড্রামা’য় পরিণত হয়েছে। দুই ভাই আর এক ভাবির এই খোঁচাখুঁচির শেষ কোথায়—তা দেখতেই এখন চোখ রাখছেন দিরাইয়ের সাধারণ মানুষ!

লতিফুর রহমান রাজু/রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad