সিলেটীদের নিয়ে এনসিপি নেত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়,প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী হুমায়রা নূরের একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সিলেটের কথ্য ভাষা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, "সিলেটিরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না।" একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেত্রীর এমন মন্তব্যকে সিলেটের মানুষের আত্মমর্যাদায় প্রত্যক্ষ আঘাত, চরম অসংবেদনশীলতা ও আঞ্চলিক বিদ্বেষমূলক আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও ভাষাবিদেরা।
হুমায়রা নূরের এই মন্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই নিন্দার ঝড় ওঠে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও টিকটকে সিলেটসহ দেশ-বিদেশের লাখ লাখ নেটিজেন এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক অপপরিপক্কতা ও মারাত্মক ‘অজ্ঞতা’ হিসেবে দেখছেন। দ্রুত এই বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব্য প্রত্যাহার করে হুমায়রা নূরকে প্রকাশ্যে সিলেটের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কড়া দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।
ভাষাবিদদের মতে, সিলেটি ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ, সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডার, নিজস্ব ‘সিলেটি নাগরী’ লিপি এবং দীর্ঘ সাহিত্যিক ঐতিহ্য রয়েছে। কোনো অঞ্চলের মানুষের আঞ্চলিক ভাষার টান বা কথ্য রূপকে 'অশুদ্ধ বাংলা' বলে চিহ্নিত করা মারাত্মক ভাষাগত মূর্খতা। কোনো ভাষার ঐতিহাসিক ও গঠনগত ভিত্তিকে এভাবে খাটো করার অধিকার কারো নেই।
বিশিষ্টজনেরা বলছেন, বাংলাদেশের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই এ দেশের প্রধান সৌন্দর্য। সিলেটের ভাষা ও ঐতিহ্য এই ভূখণ্ডের এক অনন্য অহংকার। কিন্তু একজন উদীয়মান রাজনৈতিক নেত্রীর মুখ থেকে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের ভাষাকে অবমাননা করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অনতিবিলম্বে তিনি যদি তাঁর এই আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চান, তবে সিলেটের আপামর জনসাধারণ এই প্রতিবাদের পরিধি আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: