মৌলভীবাজারে ইন্দেশরীকে সিরাজনগরীর ওপেন চ্যালেঞ্জ
“মাঠে আছি, দেখি তোমার হিম্মত!”
মৌলভীবাজারে মডেল মসজিদে মিলাদ-কিয়াম করা যাবে কি যাবে না—এই গুরুতর ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক-বিতর্ক এখন যেন ঢাকাই সিনেমার ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যে রূপ নিয়েছে! একে অপরকে চ্যালেঞ্জ, লাখ টাকার বাজি আর তার ওপর ‘খোলা মাঠে এসো’র কড়া হুঙ্কারে চায়ের শহর মৌলভীবাজারে হাওয়া এখন একদম গরম।
ঘটনার গোড়াপত্তন হয়েছিল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মাসুকির এক রাজকীয় অফার থেকে। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন-মিলাদের বিপক্ষে থাকা আলেমরা যদি বাহাছে জিততে পারেন, তবে তাদের পকেটে ঢুকবে নগদ ১০ লক্ষ টাকা! এমন লোভনীয় আর ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জের পর প্রতিপক্ষ চুপ থাকবে কীভাবে? গরম কড়াইয়ে ঘি ঢেলে সেই ১০ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ একপায়ে খাড়া হয়ে গ্রহণ করেন মুফতি আখতারুজ্জামান ইন্দেশরী।
সবাই যখন ভাবছিল খেলা এখানেই শেষ, ঠিক তখনই মহানাটকীয় মোড় এনে মঞ্চে আবির্ভূত হলেন মুফতি শেখ শিব্বির আহমদ সিরাজনগরী। ইন্দেশরীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণের খবর শুনে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি তিনি। সরাসরি ময়দানে এসে প্রতিপক্ষকে খোলা মাঠে মুখোমুখি হওয়ার উন্মুক্ত ও গরম গরম হাঁক ছুড়ে দিয়েছেন।
এ ঘটনায় মুফতি শিব্বির আহমদ সিরাজনগরী হুঙ্কার দিলেন। একই সাথে তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বলেন, ‘আমি উদাত্ত কণ্ঠে জানিয়ে দিতে চাই—আমরা এখনো মাঠ ছাড়িনি, মাঠেই আছি! মৌলভীবাজারের কোনো এক সুন্দর খোলা ময়দানে (যেমন সরকারি স্কুল মাঠে) দুই দিকে দুটি আলাদা স্টেজ করা হোক। একপাশে থাকবে মিলাদুন্নবীর পক্ষের বীরেরা, অন্যপাশে বিপক্ষের দল। প্রশাসনের পারমিশন নিয়ে একদম আমনে-সামনে বসবো। দেখি কার কত হিম্মত! হিম্মত থাকলে স্টেজে নামো!’
আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা এই আলেম প্রতিপক্ষকে একটু ট্রোল করতেই যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে ঘোষণা দেন—বিতর্কে জিততে তাদের নিজেদের ঘরের কোনো হাদিস বা কেতাবের পাতা ওল্টাতেই হবে না! প্রতিপক্ষের লাইব্রেরিতে থাকা বই-পুস্তক থেকেই মিলাদের বৈধতা এমনভাবে টেনে বের করবেন যে প্রতিপক্ষ তা দেখে চোখ কপালে তুলবে!
এদিকে, এক পক্ষের ১০ লাখ টাকার টোপ আর অন্য পক্ষের "মাঠে আসো, হিম্মত দ্যাখাও" টাইপের অল-আউট হাঁক-ডাকে স্থানীয়দের কৌতূহল এখন তুঙ্গে। সাধারণ মানুষ রসিকতা করে বলছেন, "পয়সা খরচ করে সিনেমা দেখার দরকার কী, মৌলভীবাজারের এই হাই-ভোল্টেজ ১০ লাখি বাহাছের খবর রাখলেই তো বিনোদনের কোটা ফুল!" এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের শিডিউল আর সরকারি স্কুল মাঠের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে এই 'দশ লাখ টাকার ঐতিহাসিক মিলাদ যুদ্ধ' আসলেই মাঠে গড়ায়, নাকি স্টেজে ওঠার আগেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে দেবেন!
কামরান আহমদ/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: