শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে মোমবাতির আলোতে চিকিৎসা সেবা

জেনারেটর ও আইপিএস অচল

শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে মোমবাতির আলোতে চিকিৎসা সেবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

২৭/০৮/২০২৬ ১১:৫০:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও স্বজনরা। এমনকি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার তিন লাখের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর ও আইপিএস সচল না থাকায় চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের মধ্যজামসি গ্রামের আবু মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মেডিকেল অফিসারের কক্ষ পুরোপুরি অন্ধকার। দুই কক্ষেই মোমবাতি জ্বালিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক ও স্টাফরা।

জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা অন্ধকারে পড়ে যাই।জেনারেটর ও আইপিএস সচল নয় কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।”

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষে এসি চালু থাকলেও দ্বিতীয় তলার ভর্তি ওয়ার্ডের বারান্দায় থাকা রোগীদের জন্য ন্যূনতম ফ্যানের ব্যবস্থাও নেই। হাসপাতালে আইপিএস ও জেনারেটর থাকলেও সেগুলো অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে হাসপাতালের ভেতর থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্তের পর এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। জরুরি মুহূর্তে বিদ্যুৎ না থাকলে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দেওয়া রোগীর নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

সরকারি হাসপাতালের এ বেহাল দশা নিরসন এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা। কিন্তু কেন সচল নয়, বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


শাহিন আহমেদ/ নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad