টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য

থানায় ডায়েরি পরিবেশ কর্মীর

টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য

১৮/০৭/২০২৫ ০৬:৪৯:০১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

‘প্রতিদিন ৪০টি হাউজ বোটে অনুমান ১০০০ জন পর্যটক টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যায়। ১০০০ জন লোক যদি তিন দিন হাওরে থাকে এবং প্রতিদিন দুই বার করে অর্থাৎ ১০০০ জনে তিন দিনে ৬০০০ বার টাঙ্গুয়ার হাওরে পায়খানা-প্রস্রাব করে। টাঙ্গুয়ার হাওরে আসা পর্যটকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, যদি কেউ টাঙ্গুয়ার হাওরে যায় তাহলে টাঙ্গুয়ার হাওরের পানিতে থাকা পায়খানা প্রস্রাব গায়ে মাখিয়ে নিয়ে আসবে, পায়খানা মিশ্রিত পানি মুখে নিয়ে কুলি করবে, সুপ তৈরি করে খেতে হবে। সব শেষে তিনি পর্যটকদের টাঙ্গুয়ার হাওরে না যাওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেন।’ 


উপরের লেখাটি দেশের মাদার অব ফিসারিজ খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অপপ্রচার। একটি অখ্যাত আইডি থেকে গত ৯ জুলাই ভিডিওটি আপলোড করা হলেও ১০ জুলাই ০১ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি চোখে পড়ে পরিবেশ কর্মী নাজমুল হক সজীবের (২৫)। তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত। ভিডিওটিতে টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে বিরূপ ও ব্যাঙ্গাত্বক মন্তব্য করা হয়। সেই ভিডিও থেকে এমন বিরূপ মন্তব্যের পর নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নাজমুল হক সজীব (২৫) হতবাক ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি পোস্টদাতার বিরুদ্ধে আইননানুগ হস্তক্ষেপ কামনা করে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জেলার ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।   


ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, টাঙ্গুয়ার হাওরটি তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার সীমানায় অবস্থিত। হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের টানে হাওরে ছুটে আসেন অগনিত পর্যটক। টাঙ্গুয়ার হাওরকে মাদার অব ফিসারিজ অর্থাৎ সব হাওরের মা বলা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর উপজেলার রাস্তা দিয়ে মানুষজন টাঙ্গুয়ার হাওরে আসা-যাওয়া করেন। পর্যটকদের আগমনে এই তিনটি উপজেলায় মানুষজনের কর্মসংস্থান দিন দিন বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও এগিয়ে যাচ্ছে।


জিডিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও সারা বাংলাদেশের মানুষ জনের নিকট ছড়িয়ে যায়। যার দরুন সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান টাঙ্গুয়ার হাওর অঞ্চলের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। পরিবেশকর্মী নাজমুল হক সজীব বলেন, এই ভিডিও প্রচারের কারণে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের আগমন কমে যাবে এবং জনগণের আয়ের উৎস বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমি সুনামগঞ্জ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ঘটনাটি থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেছি। 


জিডি প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন, ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিরূপ মন্তব্য করায় এ নিয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে যথা্যথ আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। 

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad