ইসলামাবাদে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো মার্কিন-ইরান বৈঠক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের দীর্ঘ বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তেহরানকে ওয়াশিংটনের ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন।
এএফপি জানায়, প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনায় মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইস্যু। ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে একটি ‘মৌলিক অঙ্গীকার’ চেয়েছিল, যা পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এই প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সময় দিচ্ছে এবং ইসরাইলের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার বিষয়টি বহাল রেখেছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’র কারণেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরানের দাবি ছিল—নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সম্পদ মুক্তি এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা। তবে ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিষয়গুলো ইসলামাবাদ আলোচনার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
বৈঠক চলাকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী’ হয়েছে, তাই চুক্তি হওয়া বা না হওয়ায় তাঁর কিছু যায় আসে না। এদিকে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন রণতরীর মাইন অপসারণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নিলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
আলোচনার আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই পক্ষকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সংলাপ অব্যাহত রাখতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে লেবানন ইস্যুতে জটিলতা এখনো কাটেনি। ইসরাইল সাফ জানিয়েছে, লেবাননের ক্ষেত্রে এই যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়। সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলি অভিযান অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিরসনে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবানন পৃথক বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: