হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন জেলাবাসী। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, গত সোমবার জেলায় যেখানে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন ছিল, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। চাহিদার এই বিশাল ঘাটতির কারণে শহর ও গ্রাম—সর্বত্রই এখন অন্ধকার রাজত্ব করছে।
বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকার চিত্র আরও ভয়াবহ। সেখানে দিনে ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সুমন জানান, কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই এলাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজার গোলাম আজাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। মিতালি ওয়ার্কশপের মালিক উজ্জ্বল জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় ২০ জন কর্মচারীর বেতন চালানোই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কেবল জেলা শহরেই নয়, উপজেলা পর্যায়ের অবস্থা আরও শোচনীয়। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শান্তিগঞ্জের পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল ও কলেজের প্রভাষক ইয়াকুব শাহরিয়ার জানান, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা অন্ধকার থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় শহরের সব ফিডারেই রেশনিং করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি থেকে সহসা মুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন: