মৌলভীবাজারে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় হাজারো চা শ্রমিক
Led Bottom Ad

শতকোটি টাকার পিএফ বকেয়া

মৌলভীবাজারে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় হাজারো চা শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

১৫/০৪/২০২৬ ২৩:১৩:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দেশের চা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসেবে বিবেচিত প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ)–এ বিপুল অঙ্কের বকেয়া জমে থাকায় দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। দেশের অন্তত ৫৮টি চা বাগানে শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ নিয়মিত জমা না হওয়ায় হাজারো শ্রমিক পড়েছেন আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায়।


নিয়ম অনুযায়ী, শ্রমিকদের বেতনের ৭.৫ শতাংশ কেটে পিএফ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা, পাশাপাশি মালিকপক্ষের সমপরিমাণ অর্থ যুক্ত হয়ে মোট ১৫ শতাংশ জমা হওয়ার বিধান রয়েছে। প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে আরও ১৫ শতাংশ যোগ হওয়ার নিয়ম থাকলেও, বহু বাগান কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ জমা না দিয়ে বকেয়া তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৮ ফেব্রুয়ারির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, বিভিন্ন বাগানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে এবং একাধিক মামলা শ্রম আদালতে চলমান। এর মধ্যে কয়েকটি বাগানের বকেয়ার পরিমাণই লাখ থেকে কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।


অন্যদিকে, আরও ৫২টি বাগানের বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া চললেও মোট অর্থের সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, সব মিলিয়ে বকেয়া অর্থের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।


চা শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা বলেন, স্বল্প আয়ের শ্রমিকরা ভবিষ্যতের ভরসা হিসেবে সামান্য সঞ্চয়ও জমা রাখেন। সেই অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় সংকট।


তবে বকেয়া তালিকাভুক্ত কয়েকটি বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও লোকসানের কারণে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন।


এদিকে ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বকেয়া আদায়ে তাগিদপত্র, সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু অর্থ আদায় হলেও বাকি টাকা উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad