সাইমুন হক এর কবিতা ‘সন্ধ‍্যামুখী মেঘালয় ও অন‍্যান‍্য’

গুচ্ছ কবিতা

সাইমুন হক এর কবিতা ‘সন্ধ‍্যামুখী মেঘালয় ও অন‍্যান‍্য’

প্রথম ডেস্ক

৩০/০৬/২০২৬ ০২:২৭:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হৃদয়ের দ্বন্দ্ব

হৃদয়ের কোনও এক অতীতে

ডুবে থাকা যায় কেঁদে কেঁদে,

আমার যন্ত্রণা জননীর জন্য

আরেক জননী কেন আমায়

ভালোবাসে! কত তিক্ততা,

ত্যাগ, বিনিময়— আমি কেবল

পুরুষ হতে পারিনি; কোনও

এক পুরুষের স্বভাবে। আমি

এখন কোনও এক দুর্ঘটনা;

বারবার ফিরে আসি মৃত্যুমুখ 

থেকে— আমি তারই সত্তা।


দেখবে সবাই ছেড়ে চলে যায়

উদয়াস্তে মায়ার টেবিলে আকাশ ভেবে যাই

মন্দ্র আমার পাখির ন্যায়ে জেলখানার গগণ

মেঘ করছে সে ভয়ে আরো সংকীর্ণ ভবন 

দ্যাখি সবাই আগামীর আমার কেবল বন্ধ জগৎ!

দ্যাখি সবাই কী করে ভুলে যায়—

রক্তের, আত্মার, বোনটিও পরের ঘরে এখন;

আমার চলে যাওয়ার পর কী তবে আপন

পুরনো খাতাটি ইঁদুরের দাঁতে আত্মজীবন?

এত, এত ভালোবাসা- বন্ধন আরাধ্য

এখন কেবলই আলো না করা চাঁদের মতন

মনে হয় মরবার পরে কে বুকে শান দেয়

যেন নরকের কেউ একটু পরেই দাফন

কবরের উপর জন্মাবে নতুন একটা গজল!

তারপর আমারে ডেকে যাবে ধূসর পাখিটি

চাপাবনে আমিও বিনয়ী উচ্চারণে এখন

আমার ঠোঁটে চুমু খেয়ে পাবে লবণের স্বাদ

দেখবে সবাই ছেড়ে চলে যায় তীক্ষ্ণ মহিমায়..


জলের ভিতরে সূর্য দেখি মার্কেটিংয়ে

ভোরের পাখি উড়ে গেছে দিগন্তের দিকে

দিনভর বুকের ভিতর দুর্ভিক্ষ জাগে


আমি যেন ছায়া হয়ে দীর্ঘপথ হাঁটি

সকাল থেকে গন্তব্যের কাছাকাছি


পৃথিবীরে টিকটিকির মত দেখি—

কথার পুঁজিতে নিজেরে করি বিক্রি


হীরের আঙটি খুবকাছে মার্কেটিং লক্ষ্যে

এক, একটা দোকানকে চাঁদ ভেবে হাসি

জীবনের নাম লিখব তবে অর্জনে?


দুপুরের রোদে বকের ঠোঁট ঝিলমিলিয়ে হাসে

ক্ষুধার্ত হয়ে ভাবি তারে ঝলসানো রুটি 

আসলে জলের গভীরের মিথ্যে প্রতিচ্ছবি!


আমার সকল জিগীষা 

আমার সকল অলস বারান্দায় পাশে

অতীত কোনো স্মৃতির পাড়ে

সময় সিন্ধুর বুকে যার অন্তর্ধান

তার সাথে হবে কথা সমস্ত আলাপ—


কোন পরাজয়ের বোধ হেমন্তের দুপুর

কোন পথ চলে যায় অপরাহ্নে পশ্চিমে দিকে

কোন জলের শরীরে নক্ষত্র পায় ব্যথা?


পৃথিবীরে বলি এইবার থেমে যেতে

আমার সকল জিগীষা তার দিকে..


সন্ধ্যামুখী মেঘালয় 

মহাসিং দূরে ডুবে আছে মন্দির 

বুদ্ধের মত ধ্যানে গাছ

নৌকা ফেলে যায় গাঙচিল;

পাগলা বাজারে ট্রাফিক পুলিশ 

অশ্বত্থ ছায়ায় কুমারী 


জন্মে উঠে নাইন্দা হাওড়ে হাঁস 

স্কুল বারান্দায় পাবনা খ্যালে;

পাশ দিয়ে দিঘলী বর্ণনা হু হু

সারাদিনের রূপকথা মাছরাঙা ছুটে যায়


কল্পনায় শুনি পাহাড় কাটে কইমাছ

যেখানে জোৎস্না রক্তিম হয়ে ফুঁসে উঠে 

আর শেষে যাদুকাটার বুক

কাঁকড়ার ছোবল কেটে নিয়ে যায় টেউ

ঘাগটিয়া, সন্ধ্যামুখী মেঘালয়

//

(সাইমুন হক। কবি)

রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন: