আত্মপ্রকাশ করল বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ
শব্দে জাগরণ, কণ্ঠে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দেশের আবৃত্তিশিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন ও সংস্কৃতিকর্মীদের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে সভাপতি এবং কবি এনামুল হক জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৮ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাসাসের নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক ও চিত্রনায়ক হেলাল খান। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন এবং জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী জাকির হোসেন।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সদ্যবিদায়ী আহ্বায়ক আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ নতুন কমিটির ঘোষণা দেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ এক যৌথ ঘোষণায় বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে আবৃত্তি একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কবিতা ও আবৃত্তি মানুষের চেতনা, সাহস ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেলেও সেই প্রচেষ্টা অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন ছিল। নতুন এই জাতীয় পরিষদ সেই উদ্যোগগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে আবৃত্তিশিল্পের বিকাশ, ভাষার শুদ্ধ চর্চা, সাহিত্যপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করবে।
সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে শিশু, কিশোর ও তরুণদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, উৎসব ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক কর্মসূচি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় শিশু আবৃত্তি একাডেমি, শিশু আবৃত্তি অলিম্পিয়াড, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আবৃত্তি নেটওয়ার্ক, জাতীয় আবৃত্তি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ডিজিটাল আবৃত্তি উৎসব আয়োজন।
এ ছাড়া প্রবীণ আবৃত্তিশিল্পীদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ এবং তাঁদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ, আজীবন সম্মাননা, ফেলোশিপ, ডিজিটাল আর্কাইভ ও মেন্টরশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে পরিষদের নেতৃবৃন্দ দেশের সব আবৃত্তিশিল্পী, সংগঠন, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী নাগরিকদের এই জাতীয় সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: