বড়লেখায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াত নেতার জামিন
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ২০১৩ সালের একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর বড়লেখা পৌরসভার সাবেক সভাপতি ও দুই বারের মেয়র প্রার্থী খিজির আহমদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ তৃতীয় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে বিকেলে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। খিজির আহমদের আইনজীবী বেলাল আহমদ জামিনে মুক্তির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, খিজির আহমদের আইনজীবী আদালতে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
১৩ বছর আগের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সেই জামায়াত নেতার জামিন
‘জেলখানায় থেকেও কীভাবে মামলার আসামি হলাম’, ওসিকে প্রশ্ন আসামির
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে বড়লেখায় জামায়াতে ইসলামী ও তৌহিদী জনতা বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে পুলিশ হামলা ও গুলি চালায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে জামায়াতকর্মী ও সাঈদী সমর্থক কিশোর লোকমান আহমদ নিহত হন।
১৩ বছর আগের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সেই জামায়াত নেতার জামিন
নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, রেলপথ অবরোধ
এ ঘটনায় খিজির আহমদসহ জামায়াতে ইসলামীর ৬৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যা মামলা করে। তবে ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও প্রবাসে থাকায় তিনি গ্রেপ্তার হননি। পরে গত শুক্রবার রাতে বড়লেখার হাজিগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে, জামিনে মুক্তির পর বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে তাকে স্বাগত জানাতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, সহকারী সেক্রেটারি আলাউদ্দিন এবং বড়লেখা উপজেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে রাত ১০ টায় বড়লেখা পৌরসভা জামায়াতের আয়োজনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জামায়াত নেতারা বলেন, খিজির আহমদ বড়লেখা পৌরসভার জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি আস্থার নাম। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দুই বার মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও তৎকালীন প্রশাসন তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু কোনো মিথ্যা প্রপাগান্ডা বা অপপ্রচার চালিয়ে এই জননন্দিত নেতাকে জনগণের ভালোবাসা থেকে দূরে রাখা যাবে না।
এছাড়াও, নেতারা অবিলম্বে পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সরকারের আমলের সকল মিথ্যা মামলা খারিজ করার এবং নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও জেলা কর্মপরিষদের সদস্য এমাদুল ইসলাম বলেন, বিগত আমলের প্রভাবশালীরা শত শত সুনির্দিষ্ট মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন তাদের ধরছে না; অথচ এক যুগ আগের পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসন তৎপরতা দেখাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: