সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের উপর গ্রেনেড হামলা: কে এই মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আজিজ?
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা ও গ্রেনেড হামলা মামলায় জঙ্গি আজিজুল ইসলাম ওরফে আজিজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে গউছসহ ৯ আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এডভোকেট আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার ১ নম্বর আসামি আজিজ নাঈমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৯ আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
কে এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ?
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজুল ইসলাম ওরফে আজিজ নাঈমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জঙ্গি ও বোমা হামলা মামলার আসামি হিসেবে প্রায় ২০ বছর কারাভোগ করেছেন। এই মামলায় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় (মূল প্রতিবেদনে ভুলবশত ১৪৪ ধারা উল্লেখ ছিল) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন।
এর আগে, সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় আজিজ গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে খালাস পান। এ ছাড়া সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা, সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর হামলা এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি ছিলেন এই আজিজ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
এদিকে রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আজিজের পরিবার একে 'ষড়যন্ত্র' বলে দাবি করেছে। আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাইকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। ১/১১ সরকারের আমলে নির্যাতন করে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। সে এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামি আজিজ নাঈমকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ফিরে দেখা
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বক্তব্য দেওয়ার সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। হামলায় অল্পের জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রাণে রক্ষা পেলেও যুবলীগ কর্মী ওবায়দুল হক ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৯ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
ঘটনার দিনই দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু হয়েছিল।
সজল
মন্তব্য করুন: