শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে 'টাকা'র সাথে বেনামি চিঠি!

ডিসি সাহেব, আসসালামুআলাইকুম

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে 'টাকা'র সাথে বেনামি চিঠি!

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২২/০৬/২০২৬ ২২:০৭:৪২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টাকা-পয়সা আর মানত তো কতই আসে, কিন্তু এবার হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্সে (ডেগ) মিললো খোদ সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রশংসা এবং মাজারের দুর্নীতির খতিয়ান সংবলিত এক বেনামি ‘চিঠি’!


সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজারের তিনটি দানবাক্স খুলে টাকা গণনার সময় অলঙ্কার ও নোটের ভিড়ে এই অভিনব চিঠিটি পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


সহকারী কমিশনার জানান, এবারই প্রথম প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স সবার সামনে প্রকাশ্য গণনার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এই চিরকুট রহস্য। ‘একজন শুভাকাঙ্ক্ষী’র লেখা ওই চিঠিতে সদ্য প্রত্যাহারকৃত ডিসি মো. সারওয়ার আলমের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি মাজারের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে জায়গা দখল ও লুটের রাজত্ব কায়েমের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।


মাজারের ডেগ থেকে উদ্ধার হওয়া সেই চিঠির হুবহু অংশ নিচে দেওয়া হলো:


"ডিসি সাহেব, আসসালামুআলাইকুম। শাহজালাল মাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটসহ সারাদেশে এমনকি বিদেশে অবস্থানরত লোকজন আপনার শুধু প্রশংসাই করছেন না; শতকরা ৯৫% মানুষ আপনার পক্ষেই আছেন।


সবচেয়ে বড় লুটপাটকারী হচ্ছে দরগার কেরানি শামুন মাহমুদ খান। অর্ধেক টাকাই সে মেরে দেয়। সে কেরানি হয়েও বড়াই করে বলে সে নাকি খাদিম। এ সবই মিথ্যা। পড়াশোনা করেছে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। দরগার জায়গায় বাড়ি করেছে, দোকানপাট করেছে। এ সমস্ত জায়গা উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। দয়া করে দেখবেন, তাকে নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। সেই মূলহোতা।"


দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দানবাক্সে টাকা জমলেও অতীতে কখনো এমন প্রকাশ্যে গণনার নজির ছিল না। সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে প্রশাসনের সিলগালা করা ডেকচির ঢাকনা খুলে টাকা গোনা শুরু হলে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ভিড় জমে যায়। আর গণনার মাঝেই এই বেনামি চিঠি পুরো ঘটনায় বাড়তি বিনোদন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


প্রসঙ্গত, এই চিঠি পাওয়ার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ রোববার বিকেলেই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিদায়ের ঠিক পরপরই মাজারের দানবাক্সে তাঁর এমন ‘পাবলিক সাপোর্ট’ এখন সিলেটের টক অব দ্য টাউন!

রোদ্দুর রিফাত/ সজল আহমদ

মন্তব্য করুন: