সুনামগঞ্জে ইউপি সদস্যকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার: এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি

সুনামগঞ্জে ইউপি সদস্যকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার: এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১১/০৬/২০২৬ ২২:০২:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ভীমখালী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আক্তার হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার এম বদরুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু অপপ্রচারই নয়, অভিযুক্ত বদরুলের বিরুদ্ধে এলাকায় নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী পরিচালনা, চাঁদাবাজি, ভুয়া চিকিৎসায় মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং নারীদের ফাঁদে ফেলার মতো গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতা গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে এম বদরুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন ও এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর ও বানোয়াট পোস্ট দেন বদরুল। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সামনাসামনি বদরুলের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করছেন।


​ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমি জনগণের ভালোবাসায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমার এবং আমার পরিবারের সম্মানহানি করতে বদরুল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং মানহানির জন্য অচিরেই আইনের দ্বারস্থ হবো।


এলাকাবাসী জানান, বদরুল ও ইউপি সদস্যের এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে ২০২৩ সালে বদরুল তার ভাইদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আক্তার হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত হামলা চালায়। ওই হামলায় ইউপি সদস্য, তার ভাই ও ভাতিজারা গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


​হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং বদরুলের সহযোগী ধন মিয়া ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও দুটি স্মার্টফোন লুট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। তৎকালীন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনা তদন্ত করে আদালতে বদরুলের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে চলমান।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ১০ ভাই একজোট থাকায় বদরুল এলাকায় একটি নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া এলাকায় মদ ও জুয়ার প্রসারে তার ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীর। কলকতা গ্রামের এক যুবক জানান, বদরুল সবসময় পেশিশক্তি ব্যবহার করে অসহায় মানুষের ওপর নির্যাতন চালান। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।


অনুসন্ধানে বদরুলের বিরুদ্ধে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কলকতা বাজারে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই 'পল্লী চিকিৎসক' পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফার্মেসি ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি। তার ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অনেককে সিলেট ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হয়েছে।


​এছাড়া, চিকিৎসার আড়ালে এলাকার নারী ও প্রবাসীদের স্ত্রীদের ব্ল্যাকমেইল করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, নিজের আপন গ্রিস প্রবাসী ভাই কবিরের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে বদরুলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে কবির তার স্ত্রীকে তালাক দিলে, ওই নারী ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী ও দেবর বদরুলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন।


এসব বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এম বদরুলের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার মন্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।


​স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে।

প্রীতম দাস/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: