কমলগঞ্জে ভুয়া ঠিকাদার দিয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণ, শেষ না হতেই অর্থ উত্তোলন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ১০ মাসের মেয়াদ পেরিয়ে ১৮ মাস পার হলেও ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণকাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। নিয়ম ভেঙে বহিরাগত লোক দিয়ে নিম্নমানের কাজ করানো এবং অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজ শেষ হওয়ার আগেই পুরো বিল তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলে স্যানিটেশন সংকটে পড়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ‘পিইডিপি-৪’ প্রকল্পের অধীনে দরগাপুর, রসুলপুর, তিলকপুর, জামিরকোনা, ফুলবাড়ী, কোনাগাঁও ও ড. চেরাগ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ টাকা চুক্তিতে কুড়িগ্রামের ‘মেসার্স নূর ট্রেডার্স’কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শুরুতেই থমকে যায়। পরবর্তীতে নিয়ম ভেঙে কুলাউড়ার সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করানো হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুলগুলোতে এখনো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ বকেয়া। প্লাস্টার, পানির লাইন, বেসিন ও টাইলসের কাজ শেষ হয়নি। তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরনো শৌচাগার ভেঙে ফেলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে আশপাশের বাসাবাড়িতে যাচ্ছেন। ফুলবাড়ী, রসুলপুর ও জামিরকোনা স্কুলের প্রধান শিক্ষকরাও দ্রুততম সময়ে ওয়াশব্লকগুলো ব্যবহারের উপযোগী করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR-২০০৮) অনুযায়ী কাজ না করায় চুক্তি বাতিলের নিয়ম থাকলেও তা না করে উল্টো জুন মাসে পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
কাজের দায়িত্বে থাকা সিরাজুল ইসলাম মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে না পেরে জানান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজন আহাম্মেদ তাকে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন।
তবে সম্পূর্ণ বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুজন আহাম্মেদ জানান, বর্ষার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং সিডিউল মেনেই মানসম্মত কাজ করা হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বাবর জানান, তারা কেবল তালিকা দিয়েছেন; বাস্তবায়নের পুরো দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: