শাল্লায় ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও প্রকাশ হচ্ছে না ফলাফল
বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'ফ্যামিলি কার্ড'
কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লায় মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও রহস্যজনক কারণে ফল প্রকাশ আটকে রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১ আগস্ট থেকে তথ্য সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ফল কবে প্রকাশ করা হবে—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, শাল্লা উপজেলায় ৩ জন সুপারভাইজার পদের বিপরীতে ৫৭ জন এবং ৩২ জন তথ্য সংগ্রহকারী পদের বিপরীতে ৫২৬ জন আবেদন করেছেন।
প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্মার্টফোন বা ট্যাব ব্যবহারের ক্ষমতা, অ্যাপে তথ্য প্রবেশ ও জিও-ট্যাগিং, ছবি সংযুক্তকরণ, নেতৃত্ব গুণাবলী এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর মূল্যায়ন করা হয়।
সংগঠন ও প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, পরীক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলেও ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা ভালো হয়েছে। আদমশুমারিতে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতাও আছে। নির্ধারিত দিনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনো ফল প্রকাশ না করায় আমরা হতাশ।
এ বিষয়ে ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী বলেন, "পরীক্ষার সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে ফল প্রকাশের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলতে পারবেন।" সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "অনেকে সুপারিশের চেষ্টা করলেও তা গ্রহণযোগ্য নয়।"
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, "পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম শেষে এখন ফলাফল যাচাই-বাছাই চলছে। খুব শিগগিরই অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফল প্রকাশ করা হবে।" সুপারিশের চাপ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সুপারিশ এলেও আমরা সম্পূর্ণ নিয়ম, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা করব। এর বাইরে কোনো কিছুর সুযোগ নেই।"
নিশিকান্ত সরকার / ডিডি
মন্তব্য করুন: