সুনামগঞ্জে হাওর আলোকিত করা এক শিক্ষক ইউসুফ আলী খান

সুনামগঞ্জে হাওর আলোকিত করা এক শিক্ষক ইউসুফ আলী খান

নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

২৬/০৭/২০২৬ ১৮:৫১:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়ানোর এক অনন্য রূপকার মো. ইউসুফ আলী খান। প্রায় চার দশক ধরে দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ও পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসীর আস্থা, ভালোবাসা ও প্রেরণার প্রতীক।


১৯৬০ সালে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাতলারটেক গ্রামে জন্ম নেওয়া ইউসুফ আলী খান ১৯৮৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর নিজ এলাকার টেবলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে আপন মামা বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলামের উৎসাহে তিনি যোগ দেন প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের হাওরবেষ্টিত অনুন্নত বাহাদুরপুর বিদ্যালয়ে।


যোগদানের সময় বিদ্যালয়টি ছিল জরাজীর্ণ টিন-ছাউনির একটি প্রতিষ্ঠান, না ছিল পাকা ভবন, না ছিল পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী। বর্ষায় জলমগ্ন হাওর আর শুকনো মৌসুমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হলেও, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর তিনি কোনো বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা করে গেছেন।


১৯৮৮ সাল থেকে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য প্রয়াত হাবিজ উল্লাহ মোড়লের বাড়িতে লজিং হিসেবে ওঠেন তিনি; আজও একই বাড়িতে তাঁর বসবাস। প্রায় চল্লিশ বছর একই বিদ্যালয়ে চাকরি এবং একই বাড়িতে অবস্থানের এমন নজির সত্যিই বিরল। ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে শিক্ষার প্রসারকে ব্রত হিসেবে নেওয়ায় এলাকাবাসী তাঁকে কখনো অন্যত্র যেতে দেননি। শুধু বিদ্যালয় নয়, ছয় সন্তানকেও তিনি সমান যত্নে উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।


আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিআরএল (প্রি-রিটায়রমেন্ট লিভ) ছুটিতে যাওয়া এই শিক্ষক অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "হাওরাঞ্চলের এই অবহেলিত জনপদের শিশুদের শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। আজ অবসরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মনে হয়, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি নেই।"

আর আর / হাবিব হেলাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad