সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জলমহাল দখলসহ মাছ লুটের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জলমহাল দখলসহ মাছ লুটের অভিযোগ

শামছুল আলম আখঞ্জী,তাহিরপুর প্রতিনিধি

১৮/০৯/২০২৬ ২২:১৯:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আইনসম্মতভাবে সরকারি রাজস্ব দিয়ে ইজারা নেওয়া মৎস্যজীবীদের পেটে লাথি মেরে জলমহাল দখল ও প্রকাশ্য দিবালোকে লাখ লাখ টাকার মাছ লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ‘হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ইজারাকৃত ‘ঘাসী নদী ২য় খণ্ড’ জলাশয় দখলে নিতে এমন বেপরোয়া তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ মিলেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সেনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

ক্ষমতার দাপট ও ক্যাডারভিত্তিক পেশিশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের জীবিকা ধ্বংসের বিচার চেয়ে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ‘ঘাসী নদী ২য় খণ্ড’ জলাশয়টি বাংলা ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ সন পর্যন্ত মেয়াদে সরকারি নিয়মকানুন মেনে ও রাজস্ব পরিশোধ করে ইজারা নেয় 'হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি'। চুক্তি অনুযায়ী সমিতিটি সেখানে মাছ চাষ ও দেখভাল করছিল। কিন্তু বিএনপি নেতা মো. সেনোয়ার হোসেনের নজর পড়ে সেই জলমহালে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক নদীটি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে সেনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তাঁর নিজ গ্রাম মির্জাপুরের ৫০-৬০ জনের একদল সশস্ত্র লোক জোরপূর্বক নদীতে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। তারা নিষিদ্ধ নেট জাল ও চায়না দুয়ারি ফেলে নদীতে থাকা চাষের মাছ লুট করে নিয়ে যায়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম সিলেটকে জানান, এই অবৈধ দখলদারি ও তাণ্ডবের কারণে তাদের অন্তত ৫ লাখ টাকার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রভাবশালীদের এই সশস্ত্র হুমকিতে মৎস্যজীবীদের জীবন ও চাষ করা সম্পদ এখন চরম ঝুঁকিতে। যেকোনো বড় ধরনের সহিংসতা এড়াতে এবং মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের কঠোর ও আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখলের এই গুরুতর অভিযোগ প্রথম সিলেট প্রতিবেদকের কাছে অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সেনোয়ার হোসেন উল্টো মসজিদ ও এলাকাবাসীর দোহাই দেন। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ অংশটি ইজারা বহির্ভূত এবং স্থানীয় মির্জাপুর জামে মসজিদ এটি ভোগদখল করে আসছে। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করতে ও ভিত্তিহীন অভিযোগে তাঁকে জড়ানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় কড়া বার্তা দিয়ে প্রথম সিলেটকে জানান, "ঘাসী নদী ২য় খণ্ড জলমহালের ইজারাদার সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ডিডি/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad