সিলেটে দুই মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ: ইমোতে মারধরের ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি

সিলেটে দুই মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ: ইমোতে মারধরের ভিডিও দেখিয়ে চাঁদা দাবি

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৮/০৯/২০২৬ ২১:১৬:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে হঠাৎ উধাও হওয়া দুই ছাত্রের কোনো সন্ধান মেলেনি টানা তিন দিনেও। এর মধ্যেই নিখোঁজ এক ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে মারধরের দৃশ্য ইমো অ্যাপে পাঠিয়ে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে এক অজ্ঞাত চক্র। অস্পষ্ট সেই ভিডিও ও প্রতারণামূলক হুমকির মুখে চরম উদ্বেগ আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নিখোঁজ কিশোরদের স্বজনেরা।

আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী নাঈম। ১৫ বছর বয়সী এ দু’জনই নগরের খাদিমপাড়া এলাকার ‘জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা’র হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। তামিম দক্ষিণ সুরমার বড়াইকান্দির আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও নিখোঁজদের স্বজনেরা জানান, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের সুযোগ নিয়ে হঠাৎ করেই দুই ছাত্র মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। নিখোঁজ সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, নিখোঁজের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর ইমো অ্যাকাউন্টে অজ্ঞাত একটি আইডি থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠায় দুর্বৃত্তরা।

ভয়াবহতার মাত্রা বেড়ে যায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, যখন ইমোতে সরাসরি ভিডিও কল দেওয়া হয়। ভিডিও কলে সাঈদকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতন করতে দেখা যায় এবং পরবর্তীতে নির্যাতনের একটি অস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজও পাঠানো হয়। এরপরই একটি নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বর দিয়ে দ্রুত ১ লাখ টাকা পাঠানোর আলটিমেটাম দেয় চক্রটি; টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে অপর ছাত্র তামিমের পিতা আবদুস সাত্তার আকুল কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে এর আগেও দু’বার না বলে বাসায় চলে এসেছিল, পরে আমিই পৌঁছে দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার সে কার সাথে কোথায় গেল, বেঁচে আছে কি না তা আল্লাই ভালো জানেন।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরের শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ প্রথম সিলেটকে জানান, এ বিষয়ে অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পৃথক আবেদনের প্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিখোঁজদের ছবি সারা দেশের সকল থানায় পাঠানো হয়েছে।

ইমোতে চাঁদা দাবির বিষয়ে ওসি ফেরদৌস আহমেদ আরও যোগ করেন, “প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরটি যাচাই করে দেখা গেছে সেটি দীর্ঘ এক বছর ধরে বন্ধ। প্রায়শই কেউ নিখোঁজ হলে সুযোগসন্ধানী কিছু সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিবারকে বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবুও পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং ছাত্রদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

ডিডি/ প্রসি - ২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad