ইউএনওর মধ্যস্থতায় তাহিরপুরে তিন দিনের নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই, যাদুকাটা ও সুরমাসহ বিভিন্ন নদীপথে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে চলা টানা তিন দিনের নৌযান পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক সফল সমঝোতা বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন ধর্মঘট আহ্বানকারীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিকের সভাপতিত্বে সমঝোতা বৈঠক ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ইজারাদার, নৌযান মালিক-শ্রমিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ উপস্থাপন করে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, প্রতিটি ঘাটে নির্ধারিত টোলের হার উল্লেখ করে বিলবোর্ড টানাতে হবে এবং কেবল রশিদের মাধ্যমে টোল আদায় করতে হবে। নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত কোনো টোল আদায় করা যাবে না।
তিনি টোলের নতুন হার ঘোষণা করে জানান, প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য ৩০ পয়সা এবং বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত হার অনুযায়ী প্রতি টনে ৪৫ টাকা টোল আদায় করা হবে। একই সাথে পাটলাই নদীর শ্রীপুর ও ডাম্প বাজার ঘাট থেকে ১০০ টন ধারণক্ষমতার নৌযানের জন্য ৫০০ টাকা, ২০০ টনের জন্য ১,০০০ টাকা এবং ২০০ টনের বেশি ধারণক্ষমতার নৌযানের জন্য ২,০০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রাসার স্টোন মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন প্রশাসনিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সুন্দর সমাধান হওয়ায় আমরা উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা যৌক্তিক দাবি আদায় করতে পেরেছি।
তিনি আরও জানান, সমঝোতা অনুযায়ী যাদুকাটা নদীতে পাথরের টোল ৮০ পয়সা ও বালুর জন্য ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে (খাস কালেকশনেও বালুর হার ৩০ পয়সা)। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত হারে পাথরের জন্য ১ টাকা ৭০ পয়সা এবং বালুর জন্য ৫০ পয়সা আদায় করা হবে। তিনি সকল নৌযান মালিক ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত রশিদ দেখে সঠিক টোল পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
বৈঠকে তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, টোল আদায়ের নতুন সিদ্ধান্ত শতভাগ কার্যকর করতে প্রতিটি ঘাটে অন্তত এক সপ্তাহ একজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
সমঝোতা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ, উত্তর শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী হায়দার সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌযান শ্রমিক ও ইজারাদার প্রতিনিধিরা।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পরপরই তাহিরপুরের বিভিন্ন নদীপথে নৌযান চলাচল ও পণ্য পরিবহন পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
শামসুল আলম আখঞ্জী / ডিডি
মন্তব্য করুন: