সিলেটে পৃথক ঘটনায় ১ দিনে প্রাণ গেল ৩ জনের
সিলেট নগরীতে পৃথক তিনটি মর্মান্তিক ঘটনায় একই দিনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সকালের দিকে নগরীর উপশহর, লালবাজার ও মিরের ময়দান এলাকায় এসব পৃথক ঘটনা ঘটে।
মোবাইল গেমে আসক্ত যুবকের আত্মহত্যা
শাহপরান থানাধীন উপশহর ১ নম্বর রোডের এফ-ব্লকের একটি বাসা থেকে রাব্বী আহমদ (২৯) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাব্বী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার দুসপুর গ্রামের মো. আবু তাহেরের ছেলে। পরিবারের সাথে তিনি ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে মোবাইল গেমে আসক্ত ছিলেন রাব্বী। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখেন। উদ্ধার করে ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অপমৃত্যুর মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত লাশ
এদিকে নগরীর বন্দরবাজারস্থ লালবাজারের ‘হোটেল আলী আবাসিক’-এর ২য় তলার ১০৮ নম্বর কক্ষ থেকে সোহেল আহমদ (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। নিহত সোহেল জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর এলাকার বাসিন্দা এবং নগরীর হাসান মার্কেটের ব্যাগেজ ব্যবসায়ী। তিনি পরিবার নিয়ে নয়াসড়ক এলাকায় থাকতেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দিলে, কোতোয়ালী থানা পুলিশ গিয়ে রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অবসরের ৩ মাস আগে অটোরিকশার ধাক্কায় শিক্ষক নিহত
নগরীর মিরের ময়দান এলাকায় সিলেট বেতারের সামনে দ্রুতগামী সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মুরাদ আহমদ নিহত হয়েছেন। নিহত শিক্ষক মিরের ময়দান এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন এবং তাঁর মূল বাড়ি নগরীর মাছিমপুরে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাঠদান শেষে বেতনের চেক নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি অটোরিকশা তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর চালক অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান জানান, মাত্র তিন মাস পরেই তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, লাশ ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াধীন এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তাহির আহমদ/ ডিডি
মন্তব্য করুন: