সিলেটে প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র শর্ম্মাকে বিদায় সংবর্ধনা
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনিল চন্দ্র শর্ম্মার অবসর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অনিল চন্দ্র শর্ম্মা শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক আলোকবর্তিকা। তাঁর নিষ্ঠা, সততা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি পিতৃসুলভ স্নেহ গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর অবদান গৌরীনগরবাসী চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকাবাসী এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানিয়া বেগমের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষক অবসরে যেতে পারেন, কিন্তু শিক্ষকতা থেকে কখনো অবসর নেওয়া যায় না। অনিল চন্দ্র শর্ম্মা দীর্ঘদিন ধরে মেধা, শ্রম ও সততার সঙ্গে বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়েছেন। আজ বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসে আলোর পথ দেখিয়েছেন। ভবিষ্যতেও শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মানপত্র পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সকিনা বেগম। স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা রানী রায় এবং গীতা পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক কল্পনা রানী শর্ম্মা।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বিদায় সংবর্ধনা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দে, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস, প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবুল খায়ের এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আজমল আলী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আমির উদ্দিন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী লবীব আহমদ ও সুজেল আহমদ, ফুলকুঁড়ি আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক আলী আফজল এবং বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরী।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগঘন কণ্ঠে অনিল চন্দ্র শর্ম্মা বলেন, “শিক্ষকতা শুধু আমার পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার জীবনের ব্রত। দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী, অভিভাবক ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি অবসরে গেলেও এই বিদ্যালয়ের সাফল্য ও সমৃদ্ধি সবসময় কামনা করব।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সুজন / আর আর
মন্তব্য করুন: