সুনামগঞ্জে সুরমা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
সুনামগঞ্জ শহরতলীর শ্রীপুর এলাকায় সুরমা নদী থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় আনুমানিক ৪০-৪২ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৩১ জুলাই (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের পেছনের নদী অংশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। গলায় গামছা পেঁচানো থাকায় ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ পৌরসভার পিরোজপুর এলাকায় সুরমা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আতঙ্কিত হয়ে তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থ অভিমুখে রওনা হয়। ইতোমধ্যে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে লাশটি সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রাম সংলগ্ন নদীতে পৌঁছায়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি নদী থেকে ডাঙ্গায় তোলে পুলিশ।
উদ্ধারকালে দেখা যায়, নিহতের গলায় একটি গামছা পেঁচানো ছিল। পরনে ছিল ফুল শার্ট ও হাফ প্যান্ট। নিহতের সুরতহাল দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কোনো এলাকার বাসিন্দা অথবা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোনো নাগরিকের লাশ হতে পারে, যা নদীপথে ভেসে এসেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির নাম পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার নেপথ্য রহস্য উদঘাটন এবং লাশের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, পৌরসভার পিরোজপুর এলাকার নদী অংশে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরবর্তীতে শ্রীপুর এলাকা থেকে সুরমা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। লাশটি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা বা ভারতের মেঘালয়ের অধিবাসীর হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।
ওসি আরও জানান, নিহতের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করতে পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রীতম দাস/ ডিডি
মন্তব্য করুন: