ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সামিটে প্রথমবার বাংলাদেশের পতাকা উড়ালেন সিলেটের ফারাবী

বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের নতুন জয়গাথা

ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক মিডিয়া সামিটে প্রথমবার বাংলাদেশের পতাকা উড়ালেন সিলেটের ফারাবী

ফয়সল চৌধুরী,হবিগঞ্জ

৩১/০৭/২০২৬ ১৩:৫৭:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বিশ্বমঞ্চে আরও একবার উড্ডীন হলো আমাদের প্রিয় লাল-সবুজের পতাকা। দূর পরবাসে, হাজারো মানচিত্রের ভিড়ে প্রথমবারের মতো সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াল বাংলাদেশ। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ২১তম ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউথ মিডিয়া সামিট’ (IYMS) এবং দ্বিতীয় ‘সেভেন ইস্যুস ফিল্ম ফেস্টিভাল’-এ ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান, উদীয়মান তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা আল ফারাবী চৌধুরী।

বিগত ২০টি আসরে বিশ্ব মিডিয়ার এই মহা-মিলনমেলায় বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। কিন্তু ২১তম আসরে এসে সেই অপূর্ণতা ঘুচল। সব বাধা পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিনিধিত্ব করে আবেগাপ্লুত এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ফারাবী।

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সন্তান আল ফারাবী চৌধুরী বর্তমানে ফ্রেন্সের স্বনামধন্য ‘প্যারিস-স্যাকলে বিশ্ববিদ্যালয়’-এ মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিষয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন। জাতিসংঘের অন্যতম সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কোর তত্ত্বাবধানে প্যারিসের ঐতিহাসিক ‘ইউনাইটেড স্টেট ফাউন্ডেশন’-এ গত ১৭ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলে দুই সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশের তরুণ ফিল্মমেকার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র আমন্ত্রিত ডেলেগেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফারাবী।

গত ৩০ জুলাই সম্মেলনের আবেগঘন সমাপনী দিনে প্যারিসের বিখ্যাত ‘প্যান পাইপার’ (Pan Piper) হলে প্রদর্শিত হয় ফারাবীর হাতে নির্মিত ইংরেজি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ইকোস অফ ভায়োলেন্স’ (The Echoes of Violence)। ফারাবী এ চলচ্চিত্রে প্রোডাকশন ডিজাইন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে অসাধারণ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। যৌথভাবে আমেরিকান তরুণ পরিচালক জানেলে মায়োর পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছে হবিগঞ্জেরই শিশু অভিনেতা নৈসর্গ। প্রদর্শনীর পর বিশ্বজুড়ে আসা অতিথি ও নির্মাতাদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে হলরুম, প্রশংসায় ভাসেন ফারাবী ও তার দল।

ফ্রেঞ্চ অভিনেতা ও গায়ক জেরেমি শারভেতের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কোর শীর্ষ কর্মকর্তারা—প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা বালালভস্কা, ইউথ ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিষ্ট মারিয়া কিপ্রয়তু, হেডকোয়ার্টারের টিম লিডার মারিন পুজে এবং মার্কিন ফিল্মমেকার এভেলিন। সমাপনী পর্বে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ফারাবীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা ও স্মারক।

সুদূর ফ্রান্স থেকে মুঠোফোনে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ফারাবী চৌধুরী বলেন—"প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই ঐতিহাসিক বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে যে অনুভূতি হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি আমার কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সমসাময়িক চেতনাকে ফুটিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। লাল-সবুজের পতাকা যখন বিশ্বমঞ্চে উড়ছিল, তখন মনে হচ্ছিল পুরো বাংলাদেশ আমার সাথে আছে।

তিনি আরও জানান, দারুণ প্রশংসা কুড়ানো তাঁদের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে তরুণদের গণমাধ্যম ও সামাজিক সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে এই প্ল্যাটফর্মটি। ক্রোয়েশিয়ায় ২০তম আসর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এ বছর ফ্রান্সে ২১তম আসরটি অনুষ্ঠিত হলো, এবং এর পরবর্তী ২২তম আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায়। তবে এই ২১তম আসরটি বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে আল ফারাবীর এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে।

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad