বিটিভিতে আয়-ব্যয়ের ভয়াবহ ফারাক

১১ মাসে ব্যয় ২৫৪ কোটি টাকা

বিটিভিতে আয়-ব্যয়ের ভয়াবহ ফারাক

প্রথম ডেস্ক

২২/০৬/২০২৬ ১৯:০৭:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আয়ের তুলনায় ব্যয় ৩২ গুণ, বড় ঘাটতিতে বিটিভি

সংসদে তথ্যমন্ত্রীর তথ্য: ১১ মাসে আয় ৮ কোটি, ব্যয় ২৫৪ কোটি টাকা

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) আর্থিক চিত্রে বড় ধরনের বৈষম্যের তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (মে পর্যন্ত) করসহ বিটিভির মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বিপরীতে একই সময়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, আয়ের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৩২ গুণ বেশি।

সোমবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ে মধ্যে বিজ্ঞাপন শাখা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা।

পাঁচ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের চিত্র

সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিটিভির আয়-ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, প্রতিটি অর্থবছরেই আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল।

২০২০-২১ অর্থবছর: আয় ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা

২০২১-২২ অর্থবছর: আয় ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা

২০২২-২৩ অর্থবছর: আয় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ব্যয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা

২০২৩-২৪ অর্থবছর: আয় ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা, ব্যয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা

২০২৪-২৫ অর্থবছর: আয় ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ব্যয় ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা

অপতথ্য ছড়ানো ৩০০-এর বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৭৮৩টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশিত হয়েছে ২২৯টি।

তিনি আরও জানান, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রচারকারী ১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায়—এমন ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১৯৯টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম ব্যবহার করে কীভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তি বিরোধীদের দমন ও চরিত্রহননের কৌশল নেয়, সে বিষয়ে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ‘শিকারী সাংবাদিকতা’ শীর্ষক একটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।

প্রতিদিন গুজব ও ভুয়া তথ্য পর্যবেক্ষণ

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য অধিদপ্তরের ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিদিন সকালে দৈনিক পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের লিংক সংগ্রহ করে ছকবদ্ধ রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়।

সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, ভুঁইফোড় সাংবাদিকতা রোধে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪ সংশোধনের কাজ চলছে। সংশোধিত আইনে গণমাধ্যমকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, নিবন্ধন এবং ডাটাবেইজ প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইন ডাটাবেইজ তৈরির লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিল ইতোমধ্যে ৩২টি জেলা থেকে প্রাপ্ত সাংবাদিকদের তথ্য হালনাগাদ করছে।

দেশে ৫৫টি বেসরকারি টিভি, সম্প্রচারে ৩৯টি

ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৫৫টি। এর মধ্যে ৩৯টি চ্যানেল সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ ছাড়া সারা দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৬টি। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ৫৯৩টি এবং অন্যান্য জেলা থেকে প্রকাশিত ৮৪৩টি। দেশে নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ৪৭৪টি। এর মধ্যে

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ২৮২টি,

দৈনিক পত্রিকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ১৩১টি,

আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ৬১টি।

১৫ বছরে অনুমোদন ৪০ টিভি, বন্ধ ৬টি

চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে ৪০টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে ৬টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন: