যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা

আলোচনায় কয়েকজন শীর্ষ নেতা

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা

প্রথম ডেস্ক

২২/০৬/২০২৬ ১৮:৩৬:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা—কে বসতে যাচ্ছেন ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বরের পরবর্তী আসনে? স্টারমার জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন। সেই সঙ্গে উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের কয়েকটি নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। পাশাপাশি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ লেবার নেতার নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে আলোচনায়।


দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম


লেবার পার্টির ভেতরে যেমন, তেমনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। প্রায় এক দশক ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। উত্তর ইংল্যান্ডে তার শক্তিশালী প্রভাবের কারণে অনেকেই তাকে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ বলেও উল্লেখ করেন।


সম্প্রতি পার্লামেন্টের একটি আসনে জয় পাওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নামতে হলে তাকে লেবার পার্টির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।


অতীতে বার্নহ্যাম দুবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ড এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হলেও, দলীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব কখনোই কমেনি। এর আগে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।


ওয়েস স্ট্রিটিংও শক্ত অবস্থানে


সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম ওয়েস স্ট্রিটিং। লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এর আগে দীর্ঘ সময় ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।


২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের সভাপতি এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ছিলেন। দলের ভেতরে তিনি একজন দক্ষ বক্তা ও নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমাতে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।


তবে স্ট্রিটিংয়ের অবস্থান নিয়ে দলীয় ভেতরে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। লেবারের মধ্যপন্থি ও ডানঘেঁষা অংশে তিনি গ্রহণযোগ্য হলেও, দলের একটি অংশ তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখনও সংরক্ষিত মনোভাব রাখে।


আলোচনায় অ্যাঞ্জেলা রায়নার


সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় রয়েছেন ব্রিটিশ রাজনীতির পরিচিত মুখ অ্যাঞ্জেলা রায়নারও। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা রায়নারের রাজনৈতিক যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প। অল্প বয়সে পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হলেও পরবর্তীতে শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতির মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।


কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় ইউনিসন ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই তার রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি করে। ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আবাসন খাতে সংস্কার এবং ভাড়াটিয়াদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত।


তবে ২০২৫ সালে একটি সম্পত্তি ক্রয়সংক্রান্ত কর ইস্যুতে বিতর্কের মুখে পড়ে তিনি পদত্যাগ করেন, যা তার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।


আলোচনায় আরও কয়েকজন


সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্বে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।


এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে অভিবাসন নীতি ঘিরে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দেওয়ায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে।


অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক রয়্যাল মেরিন কর্মকর্তা আল কার্নসকেও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এখন নজর লেবার নেতৃত্ব নির্বাচনে


কিয়ার স্টারমারের বিদায়ের ঘোষণার পর লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যাঞ্জেলা রায়নারসহ যেসব নাম সামনে এসেছে, তাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে দলীয় সমর্থন ও রাজনৈতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে পারবেন—সেই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন: