কেন্দ্রের মূল্যায়নের অপেক্ষায় সিলেটের ৫ নেতা

কেন্দ্রের মূল্যায়নের অপেক্ষায় সিলেটের ৫ নেতা

তাহির আহমদ

১৩/০৬/২০২৬ ২৩:৪৫:০৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—বিএনপির ত্যাগী নেতাদের রাষ্ট্রীয় ও দলীয়ভাবে মূল্যায়ন। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, দৃঢ় দলীয় আনুগত্য এবং নেতাকর্মীদের সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বজায় রাখা সিলেটের ৫ শীর্ষ নেতাকে যথাস্থানে মূল্যায়নের সুযোগ আসছে শীঘ্রই। তারা হলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকি, শামসুজ্জামান জামান এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।


দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে মুখে এখন এই ৫ নেতার মূল্যায়নের বিষয়টি ঘুরে ফিরছে। বিশেষ করে, মূল্যায়নের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে 'সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ' (সিউক)-এর চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করার পর এই আলোচনা রাজনৈতিক মহলে আরও বেশি গতি পেয়েছে।


দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের সামনের সারিতে থাকা সিলেটের বিএনপির নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে পুরস্কৃত হচ্ছেন। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই জয়লাভ করে বিএনপি। নির্বাচিতদের মধ্যে ৪ জনই ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং একজন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। কেন্দ্র থেকে বিএনপি সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যেই সিলেট সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ চেয়ারে বসানো হয়েছে তিন প্রভাবশালী নেতাকে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত একাধিক শীর্ষ নেতা দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং প্রবাসে দলীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখা অনেক ত্যাগী নেতা এখনো পুরস্কৃত না হওয়ায়, তাদের অনুসারীদের মধ্যে মূল্যায়নের প্রত্যাশা আরও বাড়ছে। তৃণমূলের মতে, কঠিন সময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে মিফতাহ সিদ্দিকী ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। একই সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকি ও শামসুজ্জামান জামানের মতো পরীক্ষিত নেতাদেরও যোগ্য পদে দেখতে চান তৃণমূলের কর্মীরা।


উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং আরেক উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ইংল্যান্ডপ্রবাসী নেতা হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। জাতীয় সংসদে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করছেন আরও তিনজন—জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এ মালেক এবং নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা।


স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী সিউক চেয়ারম্যান হওয়ায় মাঠের নেতাদের পদায়নের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে।


নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এটি মূলত বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি। তবে মাঠের নেতাদের পাশাপাশি প্রবাসী নেতাদের একটি অংশও মূল্যায়নের অপেক্ষায় আছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন কমিশন, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনে তাদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে দলীয় মহলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ধাপে জ্যেষ্ঠ ও শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে কেন্দ্র একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সংগ্রামে থাকা ৫ নেতাসহ অন্য নেতাকর্মীদের অবদানও কম নয়। আগামী দিনে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পর্যায়ক্রমে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে দলীয় কর্মীদের মনোবল আরও সুদৃঢ় হবে।

তাহির আহমদ / তানজুবা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: