সমন্বয়ক মাহদী ও ছাত্রদলের দ্বন্দ্ব যেভাবে শুরু

সমন্বয়ক মাহদী ও ছাত্রদলের দ্বন্দ্ব যেভাবে শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১১/০৬/২০২৬ ২০:৩১:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসান এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরী হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধাওয়া ও হামলা চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন মাহদী হাসান। তবে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে জেলা ছাত্রদল।


জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে মাহদী হাসান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ঐতিহাসিক গাদ্দারীর জন্য মেজর জিয়াউর রহমানকে প্রচণ্ডরকমভাবে অপছন্দ করি। কিন্তু বেগম জিয়া, এক অসাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষ— জীবন শেষ হয়েছে হাসপাতাল আর জেলের স্তব্ধ কুটিরের দৌরাত্ম্যে, তবুও যিনি আপোষ করেননি। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন।”


স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অনেকে মাহদী হাসানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।


হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের নেতা এনামুল হক মোরাদী ফেসবুকে লেখেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কটূক্তি করায় সমন্বয়ক মাহাদীর একটা হাত যে কাটতে পারবে, তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে।”


এছাড়া ছাত্রদল নেতা মোজাক্কির ইমন এক পোস্টে লেখেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহাদীকে বলতে চাই, এখনও সময় আছে—সংযত হন। সম্প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপনি যে মন্তব্যগুলো করেছেন, সেগুলো আমাদের মোটেও ভালো লাগেনি।”


বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আশরাফুজ্জামান রিয়াজও এক পোস্টে মাহদীকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, “পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। সম্প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে তুমি যে মন্তব্যগুলো করেছ, সেগুলো আমাদের মোটেও ভালো লাগেনি।”


এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফ শিমুল একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, “মাহদী ভাইয়ের এলাকায় বিকেলের হাওয়া খাইতে গেছিলাম আমি আর ইমন। কিন্তু ভাইকে না পেয়ে হতাশ, আমরা ভাবছিলাম একটু চা খেয়ে আসবো ভাইয়ের সাথে।”


এর একদিন পর বুধবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ওপর হামলা চেষ্টার অভিযোগ তোলেন মাহদী হাসান। তিনি দাবি করেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা শেষে বিআরটিএ কার্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে কয়েকজন তাঁকে অনুসরণ ও ধাওয়া করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন এবং পরে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।


মাহদীর অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই তাঁকে ধাওয়া করেছেন।


তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। বরং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা ও ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে।


রিংগন বলেন, “মাহদীর ফেসবুক লাইভেই তার অভিযোগের অসারতা স্পষ্ট হয়েছে। কারণ লাইভে যখন তিনি রিকশার পেছনের দৃশ্য দেখাচ্ছিলেন, তখন সেখানে কাউকে দেখা যায়নি।”


তিনি আরও বলেন, “কয়েকদিন আগে দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে শুরু করে লাইভ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিজেকে আলোচনায় আনা ও ভাইরাল হওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।”


মাহদী হাসান জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি ও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মীর্জা ইকবাল/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad