গোলাপগঞ্জ পৌরসভা: সন্ধ্যা নামলেই যেখানে অন্ধকার

গোলাপগঞ্জ পৌরসভা: সন্ধ্যা নামলেই যেখানে অন্ধকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোলাপগঞ্জ

২৮/০৭/২০২৬ ১৫:২৩:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

একটি পৌরসভার প্রধান পরিচয়ের অন্যতম শর্ত রাতে নিরবচ্ছিন্ন আলোকসজ্জা। অথচ গোলাপগঞ্জ পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের চিত্র ঠিক উল্টো। সড়কগুলোতে সারি সারি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও স্ট্রিট লাইট থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই জ্বলে না। ফলে পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার এত বছর পরও সন্ধ্যা নামলেই এক ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যায় পুরো পৌরশহর।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে আলো জ্বালানোর জন্য বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাতি বসানো হলেও অধিকাংশ স্থানে বাতি জ্বলছে না। কোথাও বাতি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে সন্ধ্যা নামলেই পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহনচালকেরা।

সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাতি থাকলেও বেশিরভাগ স্থানে কোনো লাইট জ্বলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমন আহমদ বলেন, ‘‘সড়ক আলোকায়নের জন্য স্ট্রিট লাইট বসানো হলেও আমরা এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। রাত হলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।’’

এ ছাড়া পর্যাপ্ত আলোর অভাবে রাতে নারী, শিশু ও প্রবীণদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রাতে বের হলেও স্থানীয়দের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, অন্ধকারের কারণে সন্ধ্যার পর অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন, যা ব্যবসায় প্রভাব ফেলছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আফসার আহমদ জানান, আলো না থাকায় রাতে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

পৌরবাসীর প্রশ্ন—সরকারি অর্থ ব্যয় করে বাতি ও খুঁটি বসানো হলেও সেগুলো কেন সচল রাখা হচ্ছে না? রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

দ্রুত বন্ধ থাকা বাতিগুলো মেরামত ও সব সড়কে আলো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী। পাশাপাশি এই অব্যবস্থাপনায় কারো অবহেলা বা অনিয়ম থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থার দাবিও তোলেন তারা।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘পৌরসভার স্ট্রিট লাইটগুলো নিয়মিত ব্যবহার হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। তবে সেগুলো মেরামতের কাজও নিয়মিত চলছে। কোনো লাইট নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তা দ্রুত সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’’

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad