মজনু মুহিবুর রাহমান এর গুচ্ছ কবিতা ‘প্রত্মনীরবতার মানচিত্র’
আবাউদিস: নীরবতার প্রাচীন নগর
*
আবাউদিস—
নামের ভেতরেই লেগে আছে
হাজার বছরের ধুলো।
নীল নদের পশ্চিম তীরে
একটি শহর দাঁড়িয়ে আছে,
যেখানে মৃত্যু শেষ নয়—
একটি দরজা।
অসিরিসের ছায়া
এখনও ভেসে থাকে বাতাসে,
যেন প্রতিটি প্রার্থনা
পুনর্জন্মের দিকে হাঁটে।
থিবস: ভাঙা মহিমার প্রতিধ্বনি
*
থিবস—
একসময় যার নামেই কেঁপে উঠত সাম্রাজ্য,
আজ সে শুধু পাথরের ভেতর বন্দি এক স্মৃতি।
স্তম্ভগুলো ভেঙে পড়েনি,
তারা শুধু নত হয়েছে—
সময় নামের এক অদৃশ্য রাজার সামনে।
এখানে দাঁড়ালে বোঝা যায়,
মহিমাও একদিন
ধ্বংসের ভাষা শেখে।
গিজা: পাথরের অনন্ত প্রশ্ন
*
গিজা—
পিরামিডগুলো আকাশ ছুঁতে চায় না,
তারা সময়কে মাপতে চায়।
প্রতিটি পাথর একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন—
মানুষ কত দূর যেতে পারে
মৃত্যুকে অস্বীকার করতে?
ফারাওরা শুয়ে আছে,
তবু তাদের স্বপ্ন এখনও জেগে আছে।
লুক্সর: আলো ও ছায়ার মন্দির
*
লুক্সর—
দিনের আলোয় দেবতা,
রাতের অন্ধকারে মানুষ।
মন্দিরের দেয়ালে
যে ছায়াগুলো নড়ে,
সেগুলো শুধু আলো না—
সেগুলো ইতিহাসের শ্বাস।
এখানে প্রতিটি ইট একটি প্রার্থনা,
প্রতিটি ফাটল একটি স্মৃতি।
সাকারা: নিঃশব্দ সিঁড়ি
*
সাকারা—
ধাপে ধাপে উঠে যাওয়া
একটি নীরব প্রশ্ন।
এটি কি আকাশে ওঠার চেষ্টা
নাকি মাটির গভীরে নামার?
জোসারের পিরামিড শুধু স্থাপত্য না,
এটি মানুষের প্রথম স্বপ্ন অমর হওয়ার।
প্রথম সিলেট সাহিত্য ডেস্ক
মন্তব্য করুন: