দোয়ারাবাজারে প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্বামী-সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ

অনশনে তরুণী

দোয়ারাবাজারে প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্বামী-সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

২৭/০৭/২০২৬ ১০:২৫:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এক তরুণীর জীবন বিপর্যস্ত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার সন্তানের জনক ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার হয়ে স্বামী ও সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়িতে আমরণ অনশনে বসেছেন ওই তরুণী।

ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজু (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার (২২) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর (চাপড়া) গ্রামের ছামছুল হকের মেয়ে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মাওনা এলাকার একটি কাঁচামালের আড়তে কাজের সূত্রে রাজ্জাকের সঙ্গে সুমাইয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান রাজ্জাক।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাই বিয়ের কথা বলে সুমাইয়াকে মাওনা থেকে দোয়ারাবাজারে নিয়ে আসেন রাজ্জাক। পরে সুনামগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে তারা দুই দিন অবস্থান করেন। এরপর নানা অজুহাতে সুমাইয়াকে ঢাকায় ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সুমাইয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে আর গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। সুমাইয়া বিষয়টি রাজ্জাককে জানালে তিনি তাকে আবারও দোয়ারাবাজারে আসতে বলেন। তার কথায় বিশ্বাস করে গত শনিবার (২৫ জুলাই) সুমাইয়া তার দুই শিশুসন্তান—আব্দুল্লাহ আল মামুন (৭) ও আশা মনিকে (৫) রেখে দোয়ারাবাজারে আসেন।

তবে এলাকায় পৌঁছানোর পরই রাজ্জাক মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ করেন। নিরুপায় হয়ে সুমাইয়া অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন। খবর নিয়ে জানা গেছে, তিনি এখনও রাজ্জাকের বসতবাড়িতেই অনশনরত অবস্থায় রয়েছেন।

হৃদয়বিদারক ও প্রতারণামূলক এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত রাজ্জাকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

মাসুদ রানা সোহাগ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad