রোগীর মর্যাদা কোথায়? প্রশ্ন হাজার, জবাব জিরো।

রোগীর মর্যাদা কোথায়? প্রশ্ন হাজার, জবাব জিরো।

বশির আহমদ জুয়েল

১২/০৬/২০২৬ ১৮:৪৬:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক ফয়সাল আলমের  সঙ্গে ইবনে সিনা হাসপাতালের এক চিকিৎসক (নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: মো: আওলাদ হোসেন) এর আচরণের বর্ণনা পড়ে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। বিষয়টি শুধু একজন সাংবাদিকের অপমান নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগীদের প্রতি আচরণ, মানবিকতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।


একজন রোগী যখন চিকিৎসকের কাছে যান, তখন তিনি শুধু একটি প্রেসক্রিপশন নিতে যান না। তিনি যান আস্থা, ভরসা এবং সুস্থতার আশায়। চিকিৎসকের দায়িত্ব শুধু ওষুধ লেখা নয়; রোগীর কথা শোনা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়াও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


ফয়সাল আলমের বর্ণনা অনুযায়ী, ওষুধ সেবনের পর তার শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। একজন রোগী যদি চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পর নতুন সমস্যা অনুভব করেন, তাহলে সেই অভিযোগ শোনা এবং মূল্যায়ন করা চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু যদি সত্যিই তাকে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, একজন অসুস্থ মানুষকে তার শারীরিক অবস্থার মধ্যেও দাঁড়িয়ে রেখে কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন রোগী ধনী না গরিব, সাংবাদিক না সাধারণ মানুষ—তা বিবেচ্য নয়। প্রত্যেক রোগী সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন।


আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অযাচিত বিদ্বেষ ছড়াতে চাই না। তবে আমরা চাই ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করুক, সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করুক এবং প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরুক।


একটি আধুনিক হাসপাতালের পরিচয় শুধু তার ভবন, যন্ত্রপাতি বা বিজ্ঞাপনে নয়; তার পরিচয় রোগীদের সঙ্গে আচরণে। যেখানে মানবিকতা অনুপস্থিত, সেখানে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।


আজ ফয়সাল আলমের সঙ্গে যা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, আগামীকাল তা যে কোনো সাধারণ রোগীর সঙ্গেও ঘটতে পারে। তাই এটি শুধু একজন মানুষের বিষয় নয়; এটি আমাদের সবার বিষয়।


আমরা ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা, দুঃখপ্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাই। সাথে বলবো ওই ডাক্তাররূপী ডাকাতদের মানবিক বিদ্যাটা পাঠ করাতে। রোগীর মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; এটি মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। রোগীকে সম্মান করুন। রোগীর কথা শুনুন। কারণ চিকিৎসার প্রথম শর্তই হলো মানবিকতা।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: