নারীসহ আহত ১০
ছাতকে ভূমি বিরোধ নিয়ে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও দোকান লুটপাটের অভিযোগ
ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের খাসগাঁও গ্রামে দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, দোকান লুটপাট ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আ'হ'ত হয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাসগাঁও গ্রামের মৃ'ত আলতাব আলী ও মৃ'ত ছয়ফুল্লার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় পঞ্চায়েত একাধিকবার বৈঠক করলেও সমাধান হয়নি। পরে উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রওশনের মধ্যস্থতায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ একটি লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন। আপোষনামায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ব্যবহারে বাধা না দেওয়া এবং ভবিষ্যতে জমি মাপজোখে কারও জমি অন্যের দখলে পাওয়া গেলে তা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হন।
ভুক্তভোগী জাহির আলীর অভিযোগ, ওই আপোষনামা ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে রোববার রাতে মৃ'ত আলতাব আলীর স্ত্রী নেছারুন নেছা পক্ষের লোকজন তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও দোকানে লুটপাট চালায়। এ সময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।সংঘর্ষে রেহেনা বেগম, রিমন মিয়া, জাহির আলী, ফখরুল আহমদ, তাজিমুল, ফুলজান বিবি, সুবেল, কয়েস আহমদ, আবুল হোসেন ও তাইজুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আ'হ'ত হন। গুরুতর আহত ফখরুল আহমদ, রিমন মিয়া ও রেহেনা বেগমকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালে ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।গ্রামের তাজুল গনি, দন মিয়া, মিলন উদ্দিন, তারিক আলী, মিম্বর আলী, রফিক আলী, আজির উদ্দিন, আলী আকবর, আবুল হোসেন, আক্তার হোসেন, তোরাব আলী, কয়েছ মিয়া, মিলন মিয়া ও সেবুল মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত বারবার উদ্যোগ নিলেও সমাধান সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, পঞ্চায়েত ও পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত পক্ষের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত করা হবে।
সুজন তালুকদার/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: